সাদা-কালো ঈদ

ড. জাহাঙ্গীর আলমঃ
ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ।এবারের ঈদে মুসলমানদের ঘরে একটুও ঈদের আনন্দ নেই।দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর হঠাৎ যেন চলে এলো  বহুল কাংখিত ঈদ।প্রতিবছর মহা ধুমধাম করে এই দিনটি সারাবিশ্বের মুসলমানেরা পালন করে থাকেন।মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর।ধনী-গরীব সবাই মিলেমিশে আমরা ঈদ উদযাপন করে থাকি।আমাদের জীবনে প্রথমবারের মত ঈদ উদযাপিত হচ্ছে কোন রকম  আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া একদম সাদামাটাভাবে। করোনার আগ্রাসনে আমরা আতংকিত, অসহায়দের দুঃখে দুঃখিত। বিষন্ন- বিষাদে সবার দিন কাটছে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের নিচে। ঘোর অন্ধকারে ঢেকে গেছে সারা পৃথিবী।কোথাও এতটুকু আলো নেই,নেই সুখের উল্লাস।শুধু দীর্ঘশ্বাস আর দীর্ঘশ্বাস! দুঃখের ডালি মাথায় নিয়ে যেন ডুবে গেছি সবাই আটলান্টিকের অতল তলে। পথ হারা পথিকের মত পথ ভুলে ভিন্ন পথে  কোথায় যেন হারিয়ে গেছি কেউ জানিনা।কবে দেখবো আলোকরশ্মি,কবে আবার মানুষের পদচারণায় কোলাহলে ভরে যাবে আমাদের শহর শুধু এই প্রতিক্ষা! এক টুকরো আভার সন্ধানে দিগন্তের পানে চেয়ে থাকতে থাকতে চোখ আজ অশ্রুসিক্ত।    কারো ঘরেই ঈদের আমেজ নেই,আছে শুধু হাহাকার, না পাওয়ার বেদনা।বুভুক্ষু মানুষের আর্তনাদে আকাশ বাতাস আজ প্রকম্পিত।অর্থ ছাড়া মানুষের জীবন অর্থহীন হয়ে পড়েছে।          ভুপেন হাজারিকার বিখ্যাত গান ” মানুষ মানুষের জন্যে,জীবন জীবনের জন্যে,একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা ও বন্ধু”  গানটি আমাদের হৃদয়কে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। আজ যদি দুস্থ মানুষের পাশে আমরা না দাঁড়াই, তারা বাঁচতে পারবে না, জাতির জীবনে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে।সরকারের একার পক্ষে কোটি কোটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া সহজ নয়।সমাজের বিত্তবানরা, ব্যবসায়ীগন, রাজনীতিকগন, বিভিন্ন পেশার মানুষ ,ছাত্ররা সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি যখন শুনি একজন ভিক্ষুক তার ভিক্ষাবৃত্তির সঞ্চিত অর্থ দুস্থদের দান করেছেন,তখন আমার দু’চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু গড়ে পড়ে।আবার যখন শুনি একজন মুসলিম হজ্জ্বে যাওয়ার জন্য তার জমানো টাকা দান করেছেন তখন কত যে ভালো লাগে তা বুঝানো যায় না। এটাই মানবতা, এটাই সহমর্মিতা,এটাই ধর্ম। সব পেশার মানুষ এগিয়ে আসছে বলেই অন্ততঃ দু’বেলা না হোক একবেলা গরীব মানুষ খেতে পারছে। যদিও গরীবেরা সবসময় ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত,এবার তো তাদের পক্ষে ঈদ উৎসবের কথা ভাবাই যায় না। এমনকি ধনীদেরও ঈদের নতুন জামা-কাপড় কেনার কথা মনে নেই।শপিংমল, মার্কেট বন্ধ আছে কি না সেটাও জানার প্রয়োজন হয়নি অনেকের।গরীব মানুষের যেখানে চাল-ডাল কেনাই কষ্টসাধ্য,সেখানে সখ পূরনের কথা কি আর মাথায় আসে।মহিলাদের শাড়ি-থ্রি পিচ, ছেলেদের জামা-প্যান্ট, পাঞ্জাবি-পায়জামা, বাচ্চাদের নানারকম ওয়েস্টার্ন ড্রেস সব কিছুই শো কেসের মত করে সাজানো আছে বন্ধ শপিং মলে।তবে এমন কিছু মানুষ আছে যারা হয়ত সমালোচনার তোয়াক্কা না করে লক ডাউন ভেঙ্গে শপিং করেছে।তারপরেও বলবো  তারা নতুন পোশাক পরে কোথায় বেড়াবে? ঘরে আনন্দ নেই,সে বেড়াতে গেছে অন্য কোথাও।তাই তো ঈদ হয়ে গেছে সাদা-কালো বর্নবিহীন।

লেখকঃ শিক্ষক,বানেশ্বর সরকারি কলেজ, রাজশাহী।

আরও পড়ুন