বুক রিভিউঃ বাঙালী মধ্যবিত্তের জীবনাচারের রোজনামচা “বেজে ওঠে সাইরেন”  

মাসুদুল হাসান রনি

স্মৃতিকথা নয়, বাঙালী মধ্যবিত্তের জীবনাচারের রোজনামচা “বেজে ওঠে সাইরেন”  বেশ কদিন যাবত একটু একটু করে বইটি পড়ে আজ শেষ করলাম।আসলে বইটি একটানা পড়ে শেষ করা উচিত ছিল ! সময়াভাবে সেটা সম্ভব হয়নি, আজ ছুটিরদিনে পড়ে শেষ করলাম ‘ বেজে ওঠে সাইরেন’। প্রথমদিন ২/৪ পাতা পড়ার পর মনে হয়েছিলো এটা নিয়ে ২/৪ টা লাইন না লিখলে অন্যায় হবে।তাই পড়া শেষ হওয়া মাত্রই লিখে ফেললাম নিজের আবেগ ও ভাললাগার কথাগুলো। স্বনামধন্য বাচিকশিল্পী লায়লা আফরোজের ” বেজে ওঠে সাইরেন ” শুধু স্মৃতিকথা নয়, এটি ষাটের দশকের বাঙালী মধ্যবিত্তের জীবনাচারের রোজনামচা। শেষ হয়েছে বাঙালীর স্বাধীকার আন্দোলন- মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী কিছু সময়ের আখ্যানে। বইটির সময়কাল ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সাল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ঘটনাবহুল সময় নিয়ে লেখা বেজে ওঠে সাইরেন । এই ১০ বছরের মাঝখানে দুটো যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন লেখক, ’৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও ’৭১ সালে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ। আর বেদনায় বিধুর হয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশে ঘটে যায় বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে মেরে ফেলার মতন ইতিহাসের বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড !

বেজে ওঠে সাইরেনে’র প্রতিটি পাতায় ষাটের দশকের আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন, এই আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত সাহসী মানুষগুলোর সাথে লেখকের পারিবারিক বন্ধন এবং তাদের খুব কাছ থেকে দেখা সবই উঠে এসেছে স্বল্প বয়ানে। লেখকের বড়ভাই সাংবাদিক, কমিউনিস্টপার্টির সদস্য এবং ঢাকাস্থ সোভিয়েত ইউনিয়নের ইনফরমেশন সেন্টারের প্রধান ও উদয়ন পত্রিকার সম্পাদক এটিএম শামসুদ্দীন, যিনি ১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২২বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য, অবদান রাখার পিছনে যে কজন মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছেন তিনিও তাদের মধ্যে অন্যতম। এ ইতিহাস ক’জন জানে বা মনে রেখেছেন? বেজে ওঠে সাইরেন পড়তে গিয়ে আমি আমার শৈশবের অনেক কিছুই নতুন করে খুঁজে পেয়েছি। আমাদের বয়সী অনেকের শৈশব কৈশোরের অনেক হারিয়ে যাওয়া’ আবলুশ কাঠ, বার্মিজ রেকাবি,পরীরানী গুলে বাকাউল,উদয়ন, প্রগতি প্রকাশন কতশত শব্দগুলো লায়লা আফরোজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তুলে এনেছেন।আহা আমাদের হারিয়ে যাওয়া শৈশব! লায়লা আফরোজকে চিনি একজন জনপ্রিয় বাচিকশিল্পী হিসেবে।কিন্তু উনার গদ্যশৈলী যে এতো শক্তিশালী এবং মেদহীন ঝরঝরে তা এই বই না পড়লে জানতামই না।

১৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে প্রতিটি ঘটনার বর্ণনায় ব্যবহার করেছেন অসংখ্য তথ্য-উপাত্ত। যা বইটিকে ঘটনার সততায় প্রাণ দিয়েছে। বাংলা একাডেমীকে সাধুবাদ এরকম একটি চমৎকার বই প্রকাশনের জন্য।

লেখকঃ কলামিস্ট ও কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী

আরও পড়ুন