বুক রিভিউঃ একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়

সুইটি শিলা 

বইঃ একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়
লেখকঃ রইফুল আলাম

বইটা পড়তে শুরু করলাম “একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায়” রউফুল আলম স্যারের লেখা। ২০২১ সাল এই বইটি দিয়েই শুরু করব বলে, এতদিন কাছে থাকা সত্ত্বেও শুরু করি নি। অবশ্যপাঠ্য বই “একটা দেশ যেভাবে দাঁড়ায় “। পড়েছেন?

“আমরা প্রায়ই আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের অলস-অনাগ্রহী বলে দায়মুক্ত হয়ে যাই। আসলে কি ওরা অলস? একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছারপোকার কামড় খেয়ে হলে রাত কাটান। পাঁচ- ছয়জন শিক্ষার্থী ঠাসাঠাসি করে একটি রুমে থাকেন। ১৫-২০ টাকায় ৫-৭ বছর অখাদ্য খেয়ে পাকস্থলী পোড়ান। বাসের ডান্ডা ধরে বাদুড়ের মতো ঝুলে ক্যাম্পাসে যান। ভিড়ের মধ্যে অন্যের ঘামের গন্ধ শুঁকে, ঘন্টাখানেক দাঁড়িয়ে থেকেই ইউনিভার্সিটিতে যাতায়াত করতে হয়। পরীক্ষার আগের রাতেও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পান না। টিউশনি করে মাস চালাতে হয়। কেউ কেউ সে টাকা দিয়ে পরিবারকেও দেখেন। একটা কম্পিউটার কেনার জন্য টাকাও অনেকের থাকে না। এত সংগ্রামের পরও তাঁরা ইউনিভার্সিটিতে পড়তে আসেন পড়ে যাচ্ছেন। বড় বড় স্বপ্ন দেখেন। আর যখনই ইউনিভার্সিটি থেকে বের হন, তখন তাঁদের হাতে শুধু একটি সনদ ধরিয়ে দেওয়া হয়। না কোন গবেষণার অভিজ্ঞতা, না কোনো প্রফেশনাল জীবনের সঠিক প্রস্তুতি। উপরন্তু জীবন থেকে কেড়ে নেওয়া হয় কিছু সময়। আমরা এর নাম দিয়েছি সেশনজট। হারানো সময়ের সে হিসাব কোথাও লেখা থাকে না। সেশনজটের মত ঘৃণ্য একটি বিষয় পৃথিবীর কোন সভ্য দেশে নেই। হাজার হাজার ছেলেমেয়ের জীবন থেকে সময় কেড়ে নেওয়া রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর অভিশাপ। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য কখনও বলেন না, ‘ডিয়ার স্টুডেন্ট,উই আর সরি ফর দ্যাট। ইউ উইল ট্রাই টু মেইক থিংকস বেটার’।
অথচ এই ছেলেমেয়েগুলোর মা-বাবার ট্যাক্সের টাকা দেশে লুট হয়ে যায়। কী নির্মম! পৃথিবীর আর কয়টা দেশে এত যুদ্ধ করে ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করে? একবার আন্তর্জাতিক স্টুডেন্টদের এক আড্ডায় আমাদের শিক্ষাজীবনের সংগ্রামের কথা বলেছিলাম। তা শুনে দেখলাম ওদের কেউ কেউ চোখ মুছছে। দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা কত সংগ্রাম করেন, কত কষ্ট করেন, সেটা আমি গভীরভাবে জানি। কারন একটা নিরেট গ্রাম থেকে পড়াশোনা করে আমাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন পাড়ি দিতে হয়েছে।”

আরও পড়ুন