বুক রিভিউঃ চার মূর্তি

-রাজু আহমেদ

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিশোর সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘টেনিদা’। প্টলডাঙার টেনিদার মতো আরেকটি চরিত্র বাংলা সাহিত্য তো বটেই বিশ্ব সাহিত্যেই বিরল । সেই টেনিদা এবং তার তিন শিষ্য হাবুল সেন, ক্যাবলা এবং প্যালারাম বাঁড়ুজ্জের দুঃসাহসিক ভ্রমণ কাহিনী ‘চারমূর্তি’ ।
চারমূর্তি মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে পাড়ার রকে গুলতানি করে সময় পার করছিল । সেই সময় ক্যাবলার মেসোমশাইয়ের পাল্লায় পড়ে এই চারমূর্তি এডভেঞ্চারের নেশায় যায় রাঁচির কাছাকাছি ঝন্টি পাহাড়ে মেসোমশাইয়ের ভূতে পাওয়া বাংলোয় । সেখানে নানা ঘটনা দূর্ঘটনার শেষে চারমূর্তি অসম সাহসীকতার সাথে জাল টাকার ব্যবসায়ীদের সদল্বলে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে সরকার হতে মোটা অংকের পুরস্কারের আশ্বাস পায় ।
মোট সতেরটি অনুচ্ছেদে লেখা এই বইতে নিখাদ হাস্যরসের মাধ্যমে চারমূর্তির নানা কর্মকান্ড তুলে ধরেছেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় । শিশু কিশোরদের তো বটেই যে কোন বয়সী পাঠককেই যাপিত জীবনের নানান ঘটনা-দূর্ঘটনা হতে সাময়িকভাবে ভুলিয়ে রেখে চারমূর্তির হাস্যরসে মজিয়ে রাখতে সক্ষম হবে এই বই ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চিরায়ত বাংলা গ্রন্থমালা সিরিজের এই বইটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সর্বপ্রথম প্রকাশ করে ২০০৯ সালে। এবং সর্বশেষ সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে।
এই বইটি আপনার কিশোর-কিশোরী ছোট ভাইবোন বা আত্মীয়-স্বজনের জন্য চমৎকার উপহার হতে পারে। তাই নিজে পড়ার পাশাপাশি অন্যদেরকেও উপহার দিতে পারেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই কিশোর ক্লাসিক।

বই- চারমূর্তি

লেখক- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
প্রকাশক- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
প্রথম প্রকাশ – ২০০৯

আরও পড়ুন