বুক রিভিউঃ বেজি

আল আমিন আপেলঃ

সাইক্লোন-এর কারণে  বেশ ক্ষতিসাধন হয়েছে  সমুদ্রের মাঝের কয়েকটি দ্বীপ।সেই দ্বীপগুলোর অসহায় মানুষদের মাঝে রিলিফ দেওয়ার জন্য ট্রলারযোগে রিলিফ নিয়ে চলছে শ্রাবণী,জয়ন্ত,
নিয়াজ ও ট্রলার চালক জব্বার। যাওয়ার পথে শ্রাবণী একটি দ্বীপ দেখতে পেয়ে জব্বারকে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে জব্বার কিছু ভায়ানক তথ্য দেয়;বলে, দ্বীপটার নাম হচ্ছে হকুনদিয়া,যে দ্বীপটাতে যায় সেই মারা যায়।কিছু কাল আগে নাকি এক পাগলা ডাক্তার বাস করত। সে মারা যাওয়ার পর থেকে এই কাহিনী শুরু।শ্রাবণী এই সব তথ্য নিয়াজ ও জয়ন্তকে জানালে,জয়ন্ত একটু ঠাট্টা করে বলে,এরকম হন্টেড জায়গা নাকি দেখার ওর খুব শখ।যাইহোক ওদের ট্রলারটা দ্বীপটার খুব গা-ঘেঁষে গন্তব্যে পৌছয়।গন্তব্য থেকে ম্যাপ অনুযায়ি রিলিফের দ্রব্যাদি বিভিন্ন দল ট্রলারযোগে বিভিন্ন দ্বীপে পৌছিয়ে দিয়ে আসে।বেশ কিছুদিন ধরে চলবে এই কাজ।কাজ চলার একপর্যায়ে জয়ন্ত দেখল তাদেরকে একদিন ছুটি দেওয়া হয়েছে।জয়ন্ত সিদ্ধান্ত নিল যে ও এই ছুটির দিনে সেই হকুনদিয়া দ্বীপে যাবে আসল রহস্য উদঘাটন করার জন্য।নিয়াজ ও শ্রাবণী বাঁধা দিলে ও শোনেনা এবং জোরপূর্বক তাদেরকেও রাজি করায় আবার জোর করে রাজি করায় জব্বারকে, তাদেরকে ঐ জায়গায় নামিয়ে দিয়ে আসার জন্য।

তারা তিনজন দ্বীপে প্রবেশ করে।জনমানবশূন্য দ্বীপ।শুধু বড় বড় গাছ, জঙ্গল আর গাছের ছায়া দ্বীপটাকে যেন অন্ধকার করে রেখেছে।এর মাঝে তারা লক্ষ করে একটা বেজি তাদেরকে চুপিসারে লক্ষ করতিছে।
আমার জীবনে আমি যত বেজি দেখেছি সব মানুষজন ভয় করে।মানুষের কন্ঠস্বর শুনলেই এরা জঙ্গল বরাবর দৌড় মারে।কিন্তু বেজি মানুষকে লক্ষ করে পিছন পিছন আসা;বিষয়টা একটু অস্বাভাবিক।
তো তারা বেজিটাকে তাড়া করে চলতে থাকে, এমন সময় তারা একটা বাংলো দেখতে পায়।কারো ইচ্ছা কারো অনিচ্ছা স্বত্বেও তারা বাংলোর মধ্যে প্রবেশ করে।
প্যারানরমাল বিষয়ে যাদের আগ্রহ বেশি তাদের আবার এরকম হন্টেড প্লেস বা হাউজ দেখলে ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করেনা।যেকোনো অজুহাতে তারা প্রবেশ করবে, পরে কী ঘটে ঘটুক।
এদের ক্ষেত্রে এরকমটা ঘটছিল যেহেতু রহস্য সন্ধানে তারা এসেছিল।
বাংলোতে প্রবেশ করে বারান্দায় এসে তারা দেখতে পায় দ্বীপের একপার্শ্বে হাজার হাজার বেজি। তারা অনেকটা হতভম্ব হয়ে বাংলোর অভ্যন্তরে আসে এবং একটি ল্যাবরেটরি আবিষ্কার করে। সেখানে পাওয়া বাইনোকুলার দিয়ে তারা বেজি গুলোর দিকে তাকালে দেখতে পায়, বেজি গুলো অনেকটা বুদ্ধিসম্পন্ন জীবের মতো আচরণ করছে।
বেজিগুলোর এই আচরণের রহস্য তারা জানতে পারে, ল্যাবরেটরিতে ড.মাজেদ খান-এর রেখে যাওয়া ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে।যাকে জব্বার পাগলা ডাক্তার বলেছিল।
ড.মাজেদ খান-এর ডায়েরি মতে,তিনি একটি এক্সপেরিমেন্ট করে জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর  মাধ্যমে বেজির ক্লোন তৈরি করেছিলেন এবং এই বেজির বুদ্ধিমত্তার জিনে তিনি মানুষের  বুদ্ধিমত্তার জিন বসিয়ে দেন।আশ্চর্যজনক ভাবে তিনি সফলও হন।
যার দরুন তৈরি হয় একটি ভিন্ন প্রাণী;যার এপিয়ারেন্স বেজি কিন্তু বুদ্ধিমত্তা মানুষের।তার কিছুদিন পরেই শুরু এর বংশবিস্তার,ভরে যায় দ্বীপ।

এখান থেকে যখন তারা জানতে পাড়ে ডাক্তার ও তার সহকারী বেজিগুলোর দ্বারাই মারা পরছে তখন তারা ভয়ে আতংকিত হয়ে যায়।
এদিকে আবার শুরু হয় তাদের উপর বেজিগুলোর আক্রমণ। এই আক্রমণেই তারা বুঝতে পারে এগুলোর বুদ্ধি পুরো মানুষের মতো এবং তারা এখানে এসে বড় ধরনের ভুল করেছে।

তখন থেকে শুরু হয় তাদের এখান থেকে বেঁচে ফেরার সংগ্রাম আর বেজি গুলোও শুরু করে একের পর এক আক্রমণ।
তারা কি এই দ্বীপ থেকে বেঁচে ফিরেছিল নাকি
জব্বার-এর কথাটার প্রমাণ পেয়ে হকুনদিয়া দ্বীপের শকুনের আহার হয়েছিল?
জানার জন্যে পড়ে দেখতে পারেন।

বই’র নাম:বেজি
লেখক:মুহম্মদ জাফর ইকবাল
ধরন:সায়েন্স ফিকশন
প্রথম প্রকাশ:২০০২ ফেব্রুয়ারি
প্রকাশক:পার্ল পাবলিকেশন্স
মূল্য:১৭৬ টাকা(রকমারি)

আরও পড়ুন