বুক রিভিউঃ হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ

সুমাইয়া সুলতানাঃ

বর্তমানে প্রায় ৯৫শতাংশ মুসলিম বসবাসকারী দেশ হয়েও আমরা যে কালচার প্র‍্যাকটিস করছি তাতে একটা মেয়ের হ্যাপি হয়ে ওঠা খুব সহজ,সমাজ এটাকে তেমন খারাপ কিছু মনে করে না।কিন্তু সেই হ্যাপি থেকেই সে যখন আমাতুল্লাহ হতে চায় তখন তা আর সহজে মেনে নিতে পারে না এই সমাজ এমনকি পরিবারের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোও।
একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী,মডেল নাজনীন আক্তার হ্যাপি তার এই নাম,যশ,খ্যাতির বিলাশবহুল জীবন কে তুচ্ছজ্ঞান করে কিভাবে তিনি প্রকৃত আলোয় জীবন রাঙালেন সেই কাহিনী নিয়েই বইটি লেখা।মূলত এটা একটি সাক্ষাৎকার মূলক বই।তার দ্বীনে ফেরার গল্প জানতেই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সাদিকা সুলতানা সাকি,সেটাই “হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ” নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।দ্বীনে ফেরার গল্প শুনতে,পড়তে বরাবরই আমার অনেক ভালো লাগে।বইটি যেই পড়বে সেই আশা করি মুগ্ধ হবে যদি দ্বীন বোঝার জ্ঞান তার থাকে।
তিনি এখন আর হ্যাপি নামটা পছন্দ করেন না তাই আমি তাকে আমাতুল্লাহ সম্বোধন করেই রিভিউ লেখার চেষ্টা করবো।আমাতুল্লাহ মানে হচ্ছে “আল্লাহর বান্দী”।কত সুন্দর একটা নাম পছন্দ করেছেন নিজের জন্য।বইটি পড়ে কখনো আবেগাপ্লুত হয়েছি,কখনো হেসেছি,কেঁদেছি।উনি যখন এই মিডিয়ায় কাজ করা ছেড়ে দিয়েছিলেন তখন তা ছেড়ে দেয়া মোটেও সহজ ছিলো না।সেটা ছিলো তার শো-বিজ ক্যারিয়ারের রাইজিং টাইম।হাতে ছিলো ১২টা সিনেমার অফার।এই খ্যাতি,সুনাম,ফ্যান-ফলোয়ার,দু হাতে টাকা কামানোর বিশাল সু্যোগকে তিনি এক নিমিষে ত্যাগ করে আমাতুল্লাহ হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন ছোটবেলা থেকেই তিনি নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন,কেউ তাকে বড় হয়ে কি হতে চাও জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন আমি নায়িকা হতে চাই।একটু ভাবুন তো সেই একই মানুষ কতটা পরিবর্তন হলে তার স্বপ্নটাই পুরো উল্টো হয়ে যায়??যদিও উল্টো শব্দটা ব্যবহার করাটা ভুল হলো মনে হয় আমার,কারণ এটাই একদম সঠিক স্বপ্ন।প্রত্যেকটা মুসলিমাহর স্বপ্ন তো এমনই হওয়া উচিৎ।

এখানে আশ্চর্যের বিষয় কি জানেন?আমাতুল্লাহ কে কেউ দ্বীনের দাওয়াত দেয়নি,তিনি নিজেই নিজের রবকে খুঁজে নিয়েছেন।তার পরিবার ছিলো আর পাঁচটা সাধারণ মুসলিম পরিবারের মতই।নামাজ,রোজা বা ইসলামের অন্যান্য দিক মানার ব্যাপারে পরিবার থেকে সেভাবে জোর দেয়া হতো না।বিভিন্ন বিশেষ দিনগুলোতেই শুধু নামাজ আদায় করা হতো।পর্দার জন্যেও কোনোদিন তাকে কেউ কিছু বলেনি।তাহলে ভাবুন এরকম একটা নন-প্র‍্যাকটিসিং মুসলিম পরিবার থেকে তিনি নিজে নিজে কিভাবে নিজের রবকে খুঁজে পেলে এমন একটা জীবনে ফিরে আসতে পারেন??কত প্রচেষ্টাই না ছিলো তার মহান রবের দিকে প্রত্যাবর্তন এর।

শুধু তাই না,দ্বীনে ফিরে আসার পর তাকে সহ্য করতে হয় প্রচুর মানসিক এবং শারীরিক টর্চার তাও আবার নিজের সবচেয়ে আপন মানুষগুলোর কাছ থেকেই।সেই সময়ের কাহিনী গুলো পড়লে যে কারও অনেক কষ্ট লাগবে।
আরও অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছা হচ্ছে বইটি সম্পর্কে কিন্তু রিভিউটা অনেক বড় হয়ে যাবে তাই লিখছি না।তবে ইনশাল্লাহ পরে বইটির কিছু কিছু অংশ যা মন কেড়েছে সেই অংশগুলো ছোট ছোট পোস্ট আকারে শেয়ার করবো।
পরিশেষে বলতে চাই,
পরিবার যদি বেদ্বীন হয়,পরিবারেই যদি ইসলামের চর্চা না থাকে তাহলে সেই পরিবারের সন্তানদের তার রবকে চেনার রাস্তা খুব কঠিন হয়ে যায়।এর জন্য পরিবারকেও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে হাশরের ময়দানে।
আর যারা পোস্ট টা পড়লেন তাদের কাছে অনুরোধ প্রতিদিন ৪/৫আয়াত হলেও কুরআন পড়ুন।আরবিটা পড়তে ইচ্ছা না হলে অন্তত অনুবাদ দিয়েই শুরু করুন।জানুন কে আপনার রব,আর কি কি তিনি বলেছেন আপনার আমার সবার জন্য।

বইঃহ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ
প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল আযহার
পৃষ্ঠাঃ৯৩
মূল্যঃ১৬০
সাক্ষাৎকারঃ সাদিকা সুলতানা সাকি
সম্পাদনাঃআব্দুল্লাহ আল ফারুক

আরও পড়ুন