কবিতায় দেখি নিজের অবয়ব

 

বহুকাল আমি নিরাকার ছিলাম,শূন্য অবয়বে —
সে আমার আপন অনুভবে!
কিছু স্বপ্নের আঁকিবুকি চলে মনের প্রবাহমান জলতরঙ্গে,
ওখানেই ছিলাম যেন অস্তিত্বজুড়ে!
অতঃপর ছোট ছোট শব্দ বুনি,সেই মনের মালঞ্চে
ক্যানভাসে ভেসে বেড়ায় ইচ্ছেগুলো যেনো একুরিয়ামের বুূদ বুদ পানিতে ভাসছে সোনালি জেলিফিস!
আমি কবিতায় ডুবে থাকি আটপৌরে রাত্রিদিন!
বর্ণমালার সুখ-দুখ উষ্ণতায় নিজেকে গড়ি কবির অবয়বে,
একটু একটু করে প্রতিদিন।

নিজেকে আবৃত করি কবিতার বুননে,
কখনো শ্রাবণ মেঘের দিনে,কখনো নীল জোছনার মায়াবী আলোকে!

সেই থেকে আমি মানুষ নই, বহরূপী সংসারে বোধহীন একজন নিরাকার কবি!
কবিতার মাঠে নেমেছি সকাল-সাঁঝে, শব্দের শিশিরে হাত ছোঁয়াবো বলে!
ভেবেছি নৈঃশব্দ্যেও সুর সাধা যায়,আত্মার কলরব হলে!
ইচ্ছের ফানুশ উড়িয়েছি নিঃসঙ্কোচে একটা অবারিত খোলা আকাশ পেয়ে—-!
এখানেও মিথ্যের প্রহেলিকা! সবই ধু ধু মরীচিকা!
তবে কি প্রাচীরঘেরা ছিলো কন্টকময় সে পথের চলতি হাওয়া!
আসলেই তো চিরকালের অবরুদ্ধ আত্মা
ভাসায় কি নিজেকে মুক্তির গানে!
অক্ষমতার নিদারুণ আক্ষেপ শুধু বাজে বুকের গহীনে!

কবিতা তুমি আমার জন্য না!
কি আছে তোমার আমাকে দেবার!
পারবে এক আঁজলা জল দিতে শুস্ক মাটির দলায়!
পারবে একনদীর স্রোতোবহা ধারা দিতে!
উজানে বইতে শক্তির আধার হবে আমার!
পারবে একটা মেঘমুক্ত আকাশ দিতে
যেথায় উড়বার সাধ ছিলো মুক্ত ডানায়!

জানি কিছুই পারবেনা তুমি
বড়ো বিষাদিত প্রান্তর চারিদিকে,
তাহলে কেনো পথ আগলে দাড়াও!
যখনি হারিয়ে যেতে চাই আমি নিরুদ্দেশে।।

 

 

  হাছিনা মমতাজ ডলি-কবি  

আরও পড়ুন