ক্বদরের রাতে

রফিকুল্লাহ্ কালবীঃ

ক্বদরের রাতে
থাকি অপেক্ষাতে প্রভু,
সাত আসমানের কপাট খুলে
কখন আসবে তুমি
এই দাসের ঘরের দাস বারো মাস
বসে থাকে পথের দিকে চেয়ে।

সংবছরের পাপের ঝুলি
দেবো তুলি তোমার হাতে, প্রভু
এ বছর আমারই কুঁড়ে ঘরে তুমি আসবে
এটা আমার প্রথম দাবি
তোমার তো অনেক আছে অনুগত দাস
আমার যে তুমি ছাড়া নেই কিছু আর
এ বছর আমারই ঘরে তাশরিফ আনো, প্রভু।
তোমাকে বলার আছে অনেক কথা
চল্লিশ বছরের গুনাহের ঝাঁপি
পঁচে গলে একাকার
সইবো কতো আমি আর দুঃখ মনস্তাপ
এক বারও ডাকি নি বলে<br>
আমাকে ভাগাড়ে দিও না ফেলে, প্রভু।

সারা জীবনের ইচ্ছে আমার
সুমহান ক্বদরের রাতে
প্রাণভরে তোমাকে একবার
সেজদাহ্ করি আমি
গেলো বছরগুলো আশায় আশায় গেলো
এবছর তোমাকে আসতেই হবে, প্রভু
শুধু পাপের বুঝা নয়
আরও কথা আছে ঢের- খুবই গোপন
অভিযোগও আছে মেলা
তালিকা করেছি নোটে- বলবো সব।

প্রভু, তোমার বিশাল পৃথিবীতে
আমি ভূমিহীন
দুইশ কোটি অনাহারী মানুষের
আমি একজন
মোটে একবেলা খেতে পাই
ঝুপড়িতে থাকি
কখনো বা গাছের নীচে
এ যাবত তুমি বিলাসবহুল গাড়িতে উঠে
চলে গেছো বিলাসী প্রাসাদের মালিকের বাড়ি
আমি শুধু অবাক হয়ে দেখেছি
কিছুই বলি নি, প্রভু
এবার তোমাকে আসতেই হবে গরিবের গাঁয়
শুনতে হবে চারশ কোটি পিছিয়ে পড়ার কথা।

প্রভু, আমরা কেবল
তোমারই গোলাম হতে চেয়েছি
কিন্তু তোমার অসভ্য উঁচুতলার লোকগুলো
যাদের কাছে তোমার অবাধ যাতায়াত
ওরা আমাদের কিনে ফেলে দাস হিসেবে
আমাদের সম্পত্তির অধিকার চলে যায়
ওনাদের দখলে
এমনকি আমার অপুষ্ট বউ এবং কালো বোন
সে-ও নাকি মাঝে মাঝে ঐশ্বরিয়ার মতো লাগে
প্রভু হে, ক্বদরের রাতে আমার প্রথম দাবী
ঐ সব অসভ্য শয়তানের দাসত্ব থেকে
তুমি আমাদের মুক্ত করো
তোমারই নিরঙ্কুশ দাসে করো পরিণত
আমাদের রক্তচুষে যারা বড়লোক
তাদের নিকট থেকে আদায় করে
দাও জাররা জাররা হিস্যা আমাদের
আড়াই কোটি উদ্বাস্তুকে গৃহহীন করে
যে কসাই
তাকে নামাও অট্টালিকা থেকে।

আরেকটি অভিযোগ আছে গুরুতর
তোমার এই পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক
দাসেদের
মত প্রকাশের স্বাধীনতা দাও ফিরিয়ে
তোমার তো উপর ওয়ালাদের সাথে
যোগাযোগ
তাই আমাদের সব খবরই চাপা থেকে যায় তোমার কাছে
এবার ক্বদরের রাতে তুমি এলেই সব বলবো
যখনই বলতে গেছি আমাদের অধিকারের কথা রাজপথে
ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়েছি রাস্তায় মিছিলে
তোমার উপর ওয়ালারা দিয়েছে গুণ্ডা লেলিয়ে
গুলি করে রাঙিয়েছে রাজপথ
বায়তুল মোকারম শাপলা চত্বর যার
জ্বলন্ত সাক্ষী, প্রভু
গুম হয়েছে লাখ লাখ
হাজার হাজার ঝুলিয়ে দিয়েছে ফাঁসিতে
জেলখানাগুলো একবার পরিদর্শন করো, প্রভু
সেখানে যত নিরাপরাধের আহাজারি
যাদের কান্না সাত আকাশ ভেদ করে
তোমার কাছে পৌঁছে না, প্রভু।

প্রভু গো, আমার আহার যখন
কেড়ে খায় ওরা
তখন তোমাকে রিজিকদাতা মানতে
কষ্ট হয় আমার
যখন আমার টাকায় ক্যাসিনো বসায়
জুয়ার আসর চলে দেশজুড়ে
সুন্দরীদের কদর যায় বেড়ে
দেশে দেশে ওঠে অসভ্যদের বাড়ি ঘর
সুইস ব্যাংকে জমা হয় টাকার পাহাড়
দুর্নীতিতে হয়ে উঠি চ্যাম্পিয়ন
একটি বালিশের দাম যখন
নয় সহস্র বাংলাদেশী টাকা
আমার বাড়িতে তখনও জ্বলে না কো হাড়ি
তখন তোমাকে রিজিকদাতা মানতে
আমার বড় কষ্ট হয়, প্রভু।

প্রভু, আরও কথা আছে
তোমার উপর ওয়ালারা বড়ই লোভী বজ্জাত
জোর করে ওনারা উপরেই থাকতে চায় অনাগত কাল
আমাদের সাথে খালি করে
ভোট ভোট খেলা
এই মহিমান্বিত কদরের রাতে
তোমার কাছে দাবী জানাই, প্রভু
আমাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দাও
দেখো কী ভাবে এক নিমেষে
তোমার এ গোনাহগার পা ফাটা মানুষগুলো গণেশ উল্টে দেয়
তোমার বিচারের কাছে
প্রহসনের বিচার কীভাবে পরাস্ত হয়
তা দেখার খুব ইচ্ছে আমার, প্রভু
আমার অধিকার যারা লুট করে খায়
তাদের ক্ষমা করার মতো
উদার হতে চাই না আমি।

এবারের ক্বদরের রাত
তুমি শুধু গরীবের সাথে কাটাও, প্রভু
উপর ওয়ালাদের সাথে না হয়
পরের বছর কাটিও।

লেখকঃ কবি।

আরও পড়ুন