অশনি সংকেত

রফিকুল্লাহ্ কালবীঃ

আমার আকাশে শকুনের উড়াউড়ি,
ঝড়ের আগে ছুটে বজ্রের হ্রেষা।
মেঘের আড়ালে ডানা ঝাপটায়
হিংস্র ঈগলের পাল,
কা কা ডেকে অশনি সংকেত দেয়
বর্ণবাদের শিকার আলকাতরা রঙের কাক।
তিতুমীর আর সিরাজের মতো
আমার হার্টবিটে বাজে–
বিয়েবাড়ির ড্রামের শব্দ।

আমার পায়ের তলার মাটি
তিমি মাছের মত ধীরে ধীরে ডুব দেয়–
সাগর তলের গহিনে,
কানে বাজে শত্রুর জাহাজের গুঙানি,
সীমান্তে বারুদের গন্ধ।
আমার খাবারে অরুচি, ঘুম আসে না- ভয়ে কলাপাতার মত কাঁপি,
পথে পথে খালি হায়েনার দাপাদাপি–
ঘরে বাইরে মীর জাফরের মত পাপিষ্ঠ হাসির আওয়াজ।

আমার শুকনো পাপড়ি দিয়ে
বগলের ঘাম মুছে লেন্দুপ দর্জির বউ,
গোপনে ঘসেটি বগমের নিতম্ব দেখে ফেলায়
আমার পাপের তালিকা হয় দীর্ঘ।
চাপাতি খঞ্জরগুলো চকচক করে ওঠে
মাটির নীচেতে দেখি কেঁচর বদলে সাপ।
কপালে বন্দুকের নল রেখে শুনি
শিকল পরার গান,
পেট্রলের সাথে দিয়াশলায়ের কাঠি
দপ করে ছাই হয় বাড়ি ঘর প্রান্তর।
বিদ্রোহীর চোখের তারায় দোল খায়
আইনগত ফাঁসির তৈলাক্ত দড়ি,
নিদারুন ভয়ে আমি জড়সড় হয়ে পড়ি।
আমার লাশের উপর বুট রেখে
মার্চপাস্ট করে চলে যায়
ভিনদেশি জলপাই রঙের গাড়ি।

লেখকঃ কবি ও বিভাগীয় প্রতিনিধি, মহীয়সী।

আরও পড়ুন