দুঃখ ভাগ

 

সুইস ব্যংকে সকল দুঃখ জমা রাখি
সুখে- অসুখে খরচ হবে, তার বেশি
মুনাফা বাড়বে, বেড়ে বেড়ে একদিন
দুঃখের পাহাড় হবে।

চাইলে তুমিও বিনা সুদে লোন পাবে
সময়ে-সময়ে দিও ফেরত যেমন পারো
এ বছর দুঃখ দিয়ে বাড়ি বানালাম
বিরাট প্রাসাদ, এসো তবে….

যত্নে ত্রুটি হবে না কখনো, এই আমি
অনায়াসে দুঃখ- রাণী হতে পারি
ঘুচাতে পারি মূহুর্তে সুখের অসুখ।
দক্ষিণ-জানালা দেবো খুলে হুর হুর করে

এসে যাবে মনে দুঃখ উতল-হাওয়া,
তীব্রতা বাড়ুক, তাতে কার কী?
ছাদ বাগানে এবার লাগিয়েছি দুঃখ-বৃক্ষ
ফুল থেকে ফল হয়, নিতে পারো।

ব্যালকনিতে যে ময়না পাখি আছে
তার ঠৌঁটে জমা রাখি দুঃখ রাশি রাশি
বেদনাকে বলেছি যে পশ্চিম কোণে থাকতে
কিছু পুঁজি পেলে বিষাদকে দেবো
সুখ-ঘর
নিঃসঙ্গতার জন্য ভাবছি গাড়ি নেবো
পাঠাবো খোঁজ করতে
কেমন আছে সে দুঃখ-প্রিয়তম।

সকাল- বিকাল দুঃখ জমা দেই আর
ক্রেডিট কার্ড দিয়ে তুলি, খরচ করি
কেবল বলে রাখি যে এসব পাসওয়ার্ড
তোমার নামে থাকবে

সময়-সময় নিতে পারো কিছু দুঃখ-ভাগ।

লেখকঃ অহনা নাসরিন শিউলী,  কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন