দুটি কাব্য

কাব্য – এক

একদিন নক্ষত্রে আমি

যে আমারে অশেষ করেছে চিরদিন,
চাঁদ তারা নক্ষত্রের নিচে
যদিও জানতেনা তুমি কোথায় আছি আমি আর কতটা দূর
তার স্বচ্ছ আকাশে আমি বহুদিন নিঃশব্দ নক্ষত্র হয়ে
বহুকাল ছিলাম সবথেকে দূরত্বের গ্রহের পাশে ।
তারপর মেঘে ভেসে ভেসে জলরাশি রুপে,
এই পৃথিবীর ধান কাটা মাঠে শাপলার বিলে বৃষ্টি হয়ে ঝরেছি কত শতবার।
তুমি এলে সেই জলছায়ায় ঘোরলাগা চোখে।
একবার দেখে নিয়ে, দেখেছি তোমার গহীন মরুময় প্রাণ,
জল খুঁজে খুঁজে তুমি এই বিষন্ন শ্রাবণে,
সন্ধ্যার আধারে আছো থমকে দাঁড়ায়ে
কদম ফুটেছে বুঝি বরোষার নিমন্ত্রণে।
এই ভরা জলের শ্রাবণে তুমি এলে কারকাছে?
আমি অভিভূত আমি বিমোহিত
পৃথিবীর সব শুদ্ধতম স্নিগ্ধ চোখ তার
যেন ঐ একজোড়া মায়াময় চোখের ভেতর।
আমি কেবল হারাতে এসেছি নিজেকে হারিয়ে,
জীবনের গভীর থেকে গভীরতম সময়ের
সুরঙ্গ পথে আমি ঘেটে দেখেছি
দেখেছি সেইসব ঝলমলে দিন
তাপদাহে পোড়ানো ক্লান্ত সূর্যের রং
কি অসাধারণ গোধূলির রঙে সন্ধ্যা নিয়ে রাতের হৃদয়ে।
সেই হীম হীম শীতল হৃদয়খানি দিয়েছো কি চিরে?
যে আমারে অশেষ করেছে পূর্ণতায় চিরকাল
আমি আকূল প্রাণে ফিরে ফিরে যাই
সেই অনন্তের সুদীর্ঘতম শতাব্দীর পথে
যে আমারে ডেকে নেয় সহসা তার আলোকিত প্রাণে।

 

কাব্য – দুই

যদি আবার দেখা হয়

যদি আবার কোনো দিন দেখা হয় অনেক অনেক দিন পর,
হঠাৎ কোনো জলে ভেজা পিচঢালা পথে,
যদি জমাট মেঘেরা ঢেকে রাখে সারাটি আকাশ
ঠিক সেই ক্ষণে ঘোরলাগা শত শতাব্দীর বিষ্ময় নিয়ে বলবে কি, তুমি কি সেই চন্দনা?
কেমন আছো তুমি? কোথায় ছিলে এতদিন!!
কবে এলে এই ভেজাশহরে?
আমি স্থির চোখে তাকিয়ে বলবো
এইতো আমি বেঁচে আছি এই চিরস্থায়ী পৃথিবীর পাশে।
আজও আছি স্থির দাঁড়িয়ে কতশত সহস্র জনম ধরে।
হয়তো বদলেছে পুরোনো সেই চেনা পথ
হয়তো বদলেছো তুমি
অথবা তোমার পুরোনো হৃদয়।
ধূসর হয়ে আসা আমার পৃথিবীর রং
যদিও বিষাদে বিলুপ্ত ঘনআধারে আছে ডুবে,
কিন্তু আমি নিমগ্ন ছিলাম আমার সীমাহীন হৃদয়ের ভেতর।
সময় চলে গেছে বহুদূর তোমার আমার থেকে
অথচ আমি প্রতিদিন হেঁটে প্রতিদিন ফিরি আবার প্রথমে।
নিঃশেষিত এই আমি নিরন্তর খুঁজেছি শুধু তোমাকেই,
যদি আবার দেখা হয়, যদি আবার কখনও কথা হয়,
কোনো বেলাশেষের গোধূলির লগ্নে
নদীর হৃদয় জুড়ে যখন সন্ধ্যার রং, সেই ক্ষণে
বলবে কি আচমকা তুমি এসে কোথায় ছিলে এতদিন কেমন ছিলে প্রিয় চন্দনা?
আমি তোমায় খুঁজেছি কদম ফোটার দিনে
সব শ্রাবণ বর্ষার বৃষ্টি পথে।
খৃুঁজেছি অকূল আকাশের মেঘের ভাঁজে
প্রাণের কুঠরী জুড়ে অবিরাম হাহাকার
তুমি নেই তুমি নেই তুমি নেই !
তখন আমি আকুল চোখে দেখে নিবো তোমার গহীনের তাপ,
মনভাঙা মনের শত দাগ মুছে আমি স্নিগ্ধ হবো,
পুলকের জলে ভিজে আমি হবো জলে ফোটা জলপদ্ম।
যদি আরেকবার দেখা হতো যদি আরেকটিবার দেখতে, কতটা ঝরিয়েছো যন্ত্রণার নীলাভ কষ্ট।
যে আমারে রেখে গেছে অনিশ্চয়তার পাথারে
যে আমারে চিরদিন হেলায় খেলেছে আপন মনে,
তারেই খুঁজি এই শ্রাবণ দিনের মেঘ দুপুরে।
হৃদয় জুড়ে আজ বাজে বিষাদের মতো কান্নার সুর,
তবে কি আর হবেনা দেখা এই বিস্তীর্ণ আকাশের নীচে!
তবে কেন স্মৃতির জোয়ারে ভেসে ফিরে ফিরে আসো তরঙ্গায়ীত হৃদয় সাগরে।
আর কাকে পাবো এমন করে চিরকাল এই অতল প্রাণে,
যা হারিয়েছি বহুদিন আগে, খুঁজি আমি তারেই খুঁজি
যদি আবার দেখা হয় যদি আবার কথা হয় হঠাৎ কোনো পথে।

 

রত্না আফরোজ – কবিও সাহিত্যিক   

আরও পড়ুন