পেঁয়াজ

মাহদী হাসান

আকাশ ছুঁয়েছে পেঁয়াজের দাম চারদিকে তার ঝাঁজ,
পেঁয়াজবিহীন রান্না চলিবে কেমন করিয়া আজ!
লাবীবের মা কাঁন্নার সুরে কহিল, “প্রাণের স্বামী!
তুচ্ছ পেঁয়াজ কেমন করিয়া হইয়া গিয়াছে দামী!
তখনও কাঁদাতো এখনও কাঁদায় তোমার মতোন হাল,
তোমরা কাঁদিয়ে ফেরি করিতেছো আমার সকল কাল।”
রাঁধিতে রাঁধিতে খুন্তি নাড়িয়ে কহিল কতো যে কথা,
পেঁয়াজের ঝাঁজ ছড়িয়ে পড়েছে— মঙ্গল নীরবতা।
একটুখানি দম নিয়া ফের, চলিল কথার গাড়ি—
“এইখানে এতো পেঁয়াজের অভাব, দেখিনি বাপের বাড়ি!
এই পেঁয়াজ নিয়া ক্রিকেট-ফ্রিকেট খেলেছি আমরা কতো,
এই বাড়ি এসে, তোমায় দেখেছি পেঁয়াজের কাছে নত!
যাকগে সেসব কথা, আমরা বাপের ভোজনবিলাসী মেয়ে,
আহা, এই কলিকালে তোমার দুখেতে মন পুড়ে গেছে ছেয়ে।”
“তবুও ছাড়িনি পেঁয়াজ ও তোমায়, ছিলাম আছি তো রবো,
যদি ছাড়িতেই হয় দুঃখিত মনে কাঁদো কাঁদো সুরে কবো—
চলিয়া যাও হে প্রাণের সোয়ামী পরপারে হবে দেখা,
পেঁয়াজ বিরহে বাঁচিবো কেমনে এই ভূখণ্ডে— একা!
একটা পেঁয়াজে গোস্ত রেঁধেছি— ওহে লাবীবের বাবা,
মাটিতে নামুক, তখন না হয় কব্জি ডুবায়ে খাবা।”
খাঁটি বাঙালি, পেঁয়াজবিহীন কেমন করিয়া বাঁচি,
খোসা ছাড়ায়ে দাও তো একটা, গন্ধ শুঁকেই নাচি।
খাওয়া-দাওয়া তো বড় কথা নয়, বড় কথা আজ পেঁয়াজ
বিভেদ ঘটালো তোমাতে আমাতে, সেই পাষণ্ড কে আজ!

আরও পড়ুন