প্রেম দ্বীপ

 

ক্ষীণ প্রদীপ ;তেলের অভাবে সলতে পুড়ে
কালো কুচকুচে বৃত্তাকারে ছিটছিটে পড়ছিলো,
শুধু নিভাতে পারেনি কেউ
অনবরত আছড়ে পড়ছিলো,নীল জলের ঢেউ
আমি ছাইয়ের গুড়োয় নিঃশ্বেষ হয়ে যাচ্ছিলাম ;অবিরত
দ্বীপের সবকিছু তছনছ করেছিলো দমকা হাওয়া
ক্ষীপ্ত মাছ, আর জলের রানী সরজমিনে করতো আসাযাওয়া
জলের রানী বলে, আমার ঢেউগুলো নির্লিপ্তে ভেঙেছিস
কিন্তু বহুদিন ছিলাম কয়েদি, মাঝখানে ফেরারী
এখনো দন্ডপ্রাপ্ত আসামী, উচাটনে মনের গতিনিরোধক
এবার ক্ষণিক প্রশান্তি দিবে “প্রেম দুয়ারী”?
কোন উকিল নয় ; দুস্তর প্রেম প্রতিনিধি
যে স্বচ্ছ জলে ভিজাবে আমায় নিরবধি।
কেনো তখন দ্বীপরাজ দিয়েছিলো আমায় নির্বাসন?
প্রেম অসহায় ছিলো খুঁজে নিতে পুনর্বাসন।
নির্বাসনে আমার নয়ন ভোরের ছবি আঁকত;
সূর্য জাগার বিচিত্র কোলাহলে
নাগালের পাশে জলের রেখাপাত
ছন্দ তুলতো ব্যথার বিগলে।
আজ জয় করে নিয়েছি ; নির্বাসন আমায় শিখিয়েছে
কি করে মৃত পাখির পালকে, প্রিয়জনের নাম লিখা যায়
বিধ্বংসী হাওয়ায় রক্ত বালি মিশ্রিত সিঁদুরে,বিন্দু আঁকা যায়
অবহেলায় ঝড়ে যাওয়া নেশার পাত্রে তার ছবি!
কি করে ছন্দ পতনে কবিতা লিখে কবি!
এসব আরকি!
দেখ! সূর্য দিয়েছে ফাঁকি
সন্ধ্যার আলো কেড়ে নিয়েছে জোনাকি
সামনে এলো বিষদ গাম্ভীর্যে সাজানো পুষ্পের ঢালি
দৃষ্টি তুলে দেখি! এ কোন বাগানের মালি?
নাগো! আমি এ দ্বীপের রানী ; দ্বীপরাজকে খুঁজছো তুমি?
” কিভাবে জানলে তুমি?”
বলল,”এটা যে বন্দনার উর্বর ভূমি ”
দ্বীপরাজ তোমার গল্প বলতো; ফিরে আসবে তুমি!
চোখের পলক ফেলে একটু ভেবেনিলাম,
কেনো তবে সে আমায় নির্বাসনে পাঠিয়েছিলো?
আমি জানি কেনো,দ্বীপের সংষ্কারের জন্য
তোমার আগমনীতে দ্বীপ আজ ধন্য
আমি পাগলের মতো ছুটে চললাম,
কোথাও দেখতে পাইনি দ্বীপরাজকে
হঠাৎ শুনি ধ্বনি-প্রতিধ্বনি! দ্বীপকন্যা!
দেখি দ্বীপরাজ দূরে টাওয়ারের আলোতে জ্বলে
কিন্তু আমি তাঁকে স্পর্শ করতে পারছি না!
দূরে চেয়ে দেখতাম টাওয়ারে দ্বীপরাজের প্রতিকৃতি
সভ্যতা কেনো এতো নিষ্ঠুর হলো আমার প্রতি!
দ্বীপ রাজ,আমায় সিগনাল দিচ্ছ?আমার দেহ খসখসে ;
ফিরেছি সূর্য উদয়নে ;কাচের পুতুলের বেশে
দ্বীপকন্যা! আমি সেদিন বাচাতে পারিনি তোমায়
এটা আমার নিরস নির্যাশের দায়!
কিন্তু তোমাকে হারানোর নিষ্ফল অরণ্যে
চাষ করেছি সভ্যতা;রাজত্ব দিয়েছি তোমায়
দ্বীপরাজ,রাজত্ব চাইনি আমি, স্বাধীনতা চাই
সৈন্য বহর দিয়ে নয়,পোষ্টার আর ফেস্টুনে নয়
বই,পেপারের পৃষ্ঠায় নয়,রাজপথে মানববন্ধনেও নয়।
যে দ্বীপে আমাকে নগ্ন কায়া মূর্তিগুলো নিষ্প্রাণ করেছিলো,
প্রতিটি পশমের ত্রি সীমানায়;মোমের শিখা জ্বেলেছিলো
কতক বালির উর্ধ্বক্ষেপনে;ঘুমন্ত পাখিরা জেগেছিলো
তাদের বলে দিও;কি হবে সভ্যতা দিয়ে?
তারা তো এখনো হাঁটে আমার স্বাধীনতার উপর নগ্নপায়ে।

 

নাসরিন জাহান- কবি 

আরও পড়ুন