ফিরিয়ে দাও অরণ্য আমার

 

এমন করেই যাবে যদি
অজস্র স্বপ্ন দুপায়ে মাড়িয়ে

স্বযত্নে জ্বালানো প্রণয় প্রদীপের
শেষ সলতে টুকু নিভিয়ে,
তবে তাই হোক, হয়ে যাক তোমার সুখোযাত্রা।
শুধু ফিরিয়ে দাও অরণ্য আমার
ফিরিয়ে দাও টিয়া বনের ফাগুন রাঙা মন।
জানি ফিরবেনা এর কোনটাই,
অমাবস্যায় হেঁটে হেঁটে শুক্লপক্ষের চাঁদের মতো
আসবেনা পূর্ণচাঁদের জোছনার ঢল।
ফিরবেনা সেই আমার প্রজাপতি ফড়িং উড়া দিন,
কি করে যাবে তুমি আমার মন পৃথিবীর শিকড়টা ছিড়ে দিয়ে!
কতবার হৃদয় নিংড়ে উগরে ফেলতে চেয়েছি বিষাদের বিষাক্ত ক্ষতগুলো,
কলজের সেই দগদগে ঘায়ে রক্তাক্ত করেছো অসংখ্য বার।
বিস্তীর্ণ আমার নীলাম্বরী আকাশটাই কেন নিতে হবে তোমার?
পাখীর ডানায় ভেসে যাওয়া হরিদ্রা মনের
গোধূলি রাঙা বিকেলটা আমায় দিয়ে যাও তবে,
সন্ধ্যার হাত ধরে যে রাতে নেমে আসে নিঃসীম আধার,
বসন্ত রাতের মৃত নক্ষত্রের ভীরে মরে যাই আমি প্রতি দিন প্রতি রাতে,
পিঞ্জর বদ্ধ ডানা ভাঙা পাখীর মতো।
জোনাকির নিভু নিভু আলোয় ফুরিয়ে যায় ফাগুনের রাত,
নাহয় সেই জোনাক টুকুই আমায় দিও।
জানি ফিরবেনা কামিনীর গন্ধে বিভোর
মাতাল করা দখিন হাওয়া,
ফিরবেনা আমার হিজল তলায় ঝুলে থাকা
লালচে দিনের সুখী সুখী ফুল,
সজনেডাঁটা ফেলে গেছি আমি সেই ভুল পথের প্রান্তরে,
তুমি ফেলে গেলে আমায় সব গন্ধ সাথে নিয়ে
অঘ্রাণের পৃথিবীতে।
আমি হেঁটে হেঁটে দিনশেষে ডুবে যাই গহীন অন্ধকার রাতের ভিতর ,
আবার আমি মরে মরে পচে পচে জেগে উঠি
নতুন সবুজ শুভ্র ছত্রাকের মতো।
তুমিহারা নির্বাসনের অন্য পৃথিবীতে তারপরও আমি টের পাই,
তবুও দেখি অবাঞ্ছিত চোরাকাটা হয়ে
বিঁধে আছো তুমি আমার নিমগ্ন হৃদয়ের ভিতর।

রত্না আফরোজ- কবি

আরও পড়ুন