বাঁচো

শামীমা রহমান শান্তা

যত বড় রাজা হোক, হোক সে এক প্রজা,
দিন শেষে ফিরে আসে নিজ নিজ গৃহ নীড়ে,
যার যার নিয়তিতে বোঝাপড়া খুব সোজা
‘মানুষ’ সে খুব একা, ধরনীর তীরে তীরে!

রোজদিন কাটে যার ধান্দায় ‘রোজগার’ !
কি যে ভালো, কি যে বাঁকা, থাকে না সে ভাবনা,
ভালো থাকা, ভালো খাওয়া, পরিবার, সংসার,
টাকা নাই! চাই আরো ! নইলে সে বাঁচে না!

পোশাকের আড়ালে মুখোশের জলরং
‘ভাব ধরা’ মানুষের নাটকের অভ্যাস!
ভাবেনা সে, কি যে হবে , আলগা রং ঢং!
ঠুনকো খোলসের যাত্রায় বসবাস!

যার তরে বেশ ধরে, করে ফাঁকি কারবার,
ধার ধারে না তার , পরিবার সন্তান,
দায়হীন রয় তারা, বোঝা চাপে বারবার!
কার তরে পাপে ডোবা? করে না সে সন্ধান!

দিনশেষে খুব একা, হোক রাজা হোক প্রজা,
জীবনের হিসেবে সফলতা কারে বলে?
গাড়ি-বাড়ি কাড়িকাড়ি তবু কেন ‘সুখ’ খোঁজা?
‘তৃপ্তির ঘুমহীন’ আয়ু কেন যায় গলে?

ভাবো মন, ভাবো আরো, সময়ের এই ফাঁদ,
কেন এলে পৃথিবীতে? কোথা শেষে যাবে ফিরে?
কোন ঘোরে ডুবে করো জীবনের বরবাদ!
দিনশেষে ‘তুমি কে?’ ভাবো ভাবো বারেবারে!

পৃথিবীর চক্র টা শেষ করে কি হবে?
খাতা খুলে দেখো যদি সবকিছু ‘নষ্ট’ ?
কার তরে ক্ষয়ে যাও তিলে তিলে অনুভবে?
নেবে ‘পাপি’ তকমাটা ‌ হয়ে ‘পথভ্রষ্ট’?

দম নাও এইবার, ভাবো বসে এক কোণে,
হয়ে যা গেছে যাক ফিরে এসো সত্যে।
কতকিছু করলে তো পরিবার-পরিজনে!
‘ভালো হও’, ভালো থাকো, বাঁচো মনুষ্যত্বে!

কবিঃ সাহিত্যিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুন