বাঘের পাড়ায়

-সায়ীদ আবুবকর

বাঘের পাড়ায় আন্ধার রাতে গা ছমছম করে
শুকনো পাতাও পড়ে যদি, হরিণ ভেবে ধরে।
বাঘরা ঘুমায়, বাঘিনীরা এবং তাদের ছা;
ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দ্যাখে হরিণচরা গাঁ-
সেই গাঁয়েতে হাজার হরিণ ঘুমায় গায়ে গায়ে
অন্ধকাররা আছড়ে পড়ে তাদের নরম পায়ে।
কি যে নরম মাংস তাদের, নোনতা নোনতা স্বাদ
কিন্তু তাদের ধরতে লাগে হাজার রকম ফাঁদ।
ফাঁদে তারা পা দেয় না, এমনই নচ্ছার!
ইচ্ছে করে সকাল বিকাল মটকায়েদি ঘাড়।
‘হরিণ! হরিণ!’ বলে হঠাৎ চেঁচায় বাঘের ছা।
“হরিণ কোথায়? ঘুমো এখন।” শাসায় যে তার মা।
বাঘিনীর মা কোথায় ছিলো, বললো এসে, “হুম।
ঠিক বলেছে নাতি আমার। ভাঙলো তোদের ঘুম?
কী এনেছি দেখ্ না চেয়ে!” “দেখি, নানী, কী গো-”
দেখেই নাতি চেঁচিয়ে ওঠে, “ও-মা! এ যে মৃগ!”
মধ্যরাতে বাঘের পাড়ায় চলে ভোজোৎসব
হালুম হুলুম আওয়াজ ওঠে, খুশির কলরব।

বাঘের পাড়ায় জোছনারাতে বসে চাঁদের হাট
সুন্দরী সব বাঘের ঝিরা, সে-কি তাদের ঠাট,
বাঘের বউয়ের লাঙ্গুল ধরে করে টানাটানি
বাঘের বউ না, বাঘের বউ না, সে যে বাঘের রানী।
বাঘের খালা-ফুফু যত ছিলো আশেপাশে
জোছনারাতে তাদের সাথে হো হো করে হাসে
হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে একে অন্যের গায়
জোছনাজলে তখন সারা বন যে ভেসে যায়!
কেওড়াপাতায় জোছনা নাচে, নাচে বাঘের মন
হালুম বলে হাঁক মারে সে, কাঁপে গোটা বন।
হরিণেরা বাতাসেতে পেতে রাখে কান
শোনে বাঘদের হাসাহাসি এবং তাদের গান।
বানরগুলো ভয়ে মরে, কামড়ে ধরে ডাল
গহিন বনে যায় পালিয়ে বন-শূকরের পাল।

আরও পড়ুন