বিজয়

রুকাইয়া সুলতানা মুন

বাতাসে এখনো শুকায়নি বারুদের গন্ধ
উঠানে ভেজা রক্তের ছোপ।
থেকে থেকে ছেড়া শাড়ি ময়মন পাগলীর
যৌবনে তার ভাটা পড়েছে, পড়েনি কলঙ্কে
কেউ নেয়নি তুলে ঘরে
সে বোঝেনা স্বাধীনতার মানে।

রাতের গায়ে লেপ্টে আছে গুলির শব্দ
আজও ঘুম ভাঙে দু:স্বপ্নে।
বাতাসে কান পেতে ভারী বুটের আওয়াজ পাই
জীপের শব্দ, মেশিনগান, ট্যাটা  ট্যা ট্যা
এরপর কেবলি নিরবতা।

ঠায় দাড়িয়ে চৌকাঠে সাতচল্লিশ বছর
আনমনে মোছে চশমার কাচ; কোন এক
বেখেয়ালী বেলায় আসবে খোকা
ঝাপিয়ে পড়ে ভরিয়ে দেবে মায়ের তৃষিত বুক।

খোকা বলেছিল আমি ফিরব মাগো।
বুকপকেটে তোমার জন্য নতুন পতাকা নিয়ে
যদি নাও ফিরি, তবু ঠিক পাঠিয়ে দেব
তোমার নামে হলুদ খামে বিজয়লিপি।
খোকা আসেনি এসেছে বিজয় ন’মাস পড়েই
কিন্তু বিজয় কেমন জননী তা দেখেনি চোখে
কারন শোকে দু:খে সে এখন অন্ধ।

কেবল শুনতে পায় ——– দ্বন্দ্ব  সংঘাত
শোষন নীপিড়ন স্বৈরাচারের রাশভারি গলা।
নোংরা রাজনীতি, দূর্নীতি, কালোবাজারি
ক্ষমতার নিচে চাপাপড়া মজলুমের আহাজারি।
কেউ পাচতলায়,  কেউ গাছতলায়
কেউ ফেলে দেয়,কেউ ভাগার হাতরেতরে বেড়ায়।

শুনেশুনে মায়ের আটকে আসে দম
কে দেবে দাওয়াই?কে করবে প্রতিকার?
সর্ব অঙ্গে মায়ের ব্যাথায় জর্জর।

নির্ঘুম রাতে স্বপ্ন বোনে আসবে সোনাভোর
কভু একদিন হবেই হবে কালো রাতের ক্ষয়
সেদিন সকলে দেখবে সেথায়—–
বিজয় রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে মায়ের আঙ্গিনাময়।

 লেখকঃ কবি। 

আরও পড়ুন