মুজিবের পায়ে আমি চুম্বন দিতে এসেছি

রফিকুল্লাহ্ কালবী

আমি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর পায়ে চুম্বন করতে এসেছি।
রেসকোর্সে – বত্রিশ নম্বরে – টুঙ্গীপাড়ায়
আমি তাঁর পদচিহ্নে চুম্বন দিতে এসেছি।
যে অঙ্গুলির ইশারায় সাত মার্চে স্বাধীনতা নামে বাংলায়,
যে কণ্ঠের বজ্রনিনাদে ধ্বসে যায় আয়ুব-এহিয়ার মসনদ,
সেই ঐন্দ্রজালিক অঙ্গুলি আর কণ্ঠনালী আমি চুম্বনে চুম্বনে রাঙিয়ে দিতে এসেছি।

মাথাভর্তি ব্যাকব্রাশ যে রাশি রাশি চুল বুদ্ধির দৃপ্তি ছড়ায়,
ছুঁয়ে দিতে মন চায় আভিজাত্যপূর্ণ বিরল ছাঁটের গোঁফ,
সদাহাস্য রূপালি দাঁতের ঝিলিক, যেখানে পঁচাত্তর মিলিয়ন বাঙ্গালীর চুম্বনের অনুুভুতি খেলা করে-
কপালে জমে থাকা টলটলে শ্রান্ত ঘামের বিন্দু,
চুরোটের পবিত্রতার ঘোষণা দেয় মহিমান্বিত ঠোঁট,
পুরোট বুকেতে সাজানো পুরো বাংলার সাড়ে সাত কোটি জনতা।
যে চোখের তারায় জ্বলে স্বাধীকারের আলোকবর্তিকা,
যেন সার্চ লাইট খুঁজে ফেরে মানবতার পরিত্রাণ–
যার ভরা যৌবনের দাপটে কাঁপে সাতচল্লিশ,
আগরতলাকে তুড়িমেরে উড়িয়ে দিয়ে
বাহান্নকে যিনি কান ধরে উঠ-বোস করান।
যাঁর ইচ্ছায় নীলডাউন কাঁপে ঊনসত্তর,
সত্তরের অট্টহাসি প্রতিধ্বনিত হয় বাতাসে,
একাত্তর যাঁকে স্যালুট করে চলে যায়-
আমি তাঁকে চুম্বন করতে এসেছি।

মহাশূন্যের মতো বিশাল যাঁর হৃদয়াকাশ
যিনি ক্ষমা করেন অবারিত উদারতায়।
রাজাকার-আলবদরের মতো গাধাদের যিনি ছাগলের মতো ছেড়ে দেন চারণ ক্ষেত্রে,
কেবল ওহশী আর রবাহর মতো মানবতা বিরেধী ছাড়া,
পয়গম্বরের মক্কা বিজয়ের সাথে ঠিকটি মিলে যায়।
শত্রুর সাথে গলাগলি করার কি অসীম ক্ষমতা কলিজায়!
আমার প্রিয় শহীদের বুক ফেড়ে হৃদপিণ্ড চিবিয়ে খায় যে নরাধম,
ভিনদেশী বর্জ চাপায় বাংলাদেশের ঘাড়ে-
এমন দেশদ্রোহী রাক্ষস ছাড়া সবাইকে বড় প্রয়োজন স্বদেশ বিনির্মাণে।
রাজাকারের বিচারের মাপকাঠি ঠিক করে দেন মুজিব-
প্রিয় নবীর মক্কা বিজয়ের নিক্তি দিয়ে মেপে।
মদিনার সনদের মতো প্রীতিময় সংবিধান যার আদর্শ,
সেখান থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতার আমদানি।
লুটেরা- ধর্ষক আর কুপমণ্ডুক রাজাকারের নিকট থেকে ধর্মের তাফসির শেখা বাঙ্গালীর কাজ নয় বাহে।
আমি সেই মানবতাবাদী ধর্মপরায়নের হৃদয় স্পর্শ করতে এসেছি।

হাজার দফাকে নিমেষে এক দফায় রূপান্তর করার মহানায়ক জাতির জনক সুপ্রিয় শেখ সাহেব
যাঁর দেহ- মনে অঙ্কিত গর্বিত পতাকা – এক অবাক করা মানচিত্র।
দূষণমুক্ত নিঃশ্বাসের জন্য-
যমদূতের প্রবেশাধিকার সীমিত করার নিমিত্ত,
তাঁকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় কোনো প্রিয়তম নেই আমার
আমার শ্রেষ্ঠ চুম্বনগুলো তাঁরই জন্যে নিবেদিত।

আপন মহিমায় যুগকে চাবুক মারেন যে মহামতি,
পঁচাত্তর তাঁকে সর্বস্বান্ত করার দুঃসাহস দেখায় আচানক।
দশ দিক থেকে বারুদের গন্ধ ধাবমান
মুহূর্মুহূ ট্যাঙ্কের গুঙানি,
দ্রিম দ্রিম ফোটে স্টেনগান একে- সাতচল্লিশ।
বড় অসহায় লাগে প্রিয় স্বাধীনতার ফ্যাকাসে মুখ!
এই কি তবে ক্ষমাকৃত রাজাকারের পদ ধ্বনি?
ঘুন পোকার কুটকুট শব্দ!
মীর জাফর – ঘসেটি বেগমরা চুরি করা কম্বল মুড়ি দিয়ে এভাবেই মিশে থাকে গলায় গলায়,
ঠিক যেনো ইবলিসের মতো রক্তের কণিকায়।
পিতার দূরদর্শী চোখ ঝাপসা হয়ে যায়
শিশু রাসেলরা ডুবে যায় নির্মিলিত সেই ঝাপসা চোখের লোনা জলের ভিতর!
যে তুলতুলে রাসেল তখনও ‘শেখ’ হয়ে ওঠে নি –
মাসুম রাজপুত্রের গড়িয়ে যাওয়া রক্তের দর্পনে পিতাজী দেখেন–
পঁচাত্তর মিলিয়ন শেখের বাংলাদেশ।
জীবিত মুজিবের চেয়ে মৃত পিতা সহস্র তেজষ্ক্রীয়া হয়ে ফিরে আসে বারেবার লাল সবুজের তেপান্তর ছেপে।
পঁচাত্তরকে হাজার বছর ধরে ফাঁসির মঞ্চে উঠাবার মতো বাঙ্গালীর অভাব হবে না কোনো দিন।

যাদের কাঁধে ভর করে বাংলায় আগস্ট আসে এক দুই তিন – –
আমি তাদের ঘৃনা করতে এসেছি এবং
আগস্টের প্রবেশাধিকার করছি নিষিদ্ধ মানবতা, উন্নয়ন আর গণতন্ত্রের রপ্তানি কারক ব- দ্বীপে।
আমার ভেতরের সকল ঘৃণা কেবল তাদের জন্যে নিবেদিত
যারা নিষিদ্ধ আগস্টের বাহক।

কুষ্টিয়া ১৫/০৮/২০২০

আরও পড়ুন