মেয়ে তুমি

মেয়ে, তুমি আর চেও না সিণ্ডারেলা হতে।
পরী মায়ের কাছে চেও না আর নাচের জুতোর বর।
কী লাভ হবে জমকালো ওই নাচ পোশাকে?
কী আসে যায় রাজকুমারের প্রেমের দানে?
যে প্রেম পোশাক এবং জুতোর রঙের ছটায় মেলে,
তার মূল্য সামান্যই।
মেয়ে, তুমি স্নো হোয়াইট হয়ো না।
আর কিনো না রঙ ফর্সা করার ক্রিম।
আর কতকাল থাকবে আশায় রাজকুমারের চুমুর?
এবার তুমি নিজেই তোমার দুচোখ মেলো।
মেয়ে, তুমি আর হয়ো না রাপুনজেল।
ওই উঁচুতে দুর্গ থেকে ফেলো না চুল।
কবে কখন রাজার কুমার উঠবে বেয়ে–
সেই আশাতেই থেকো না মেয়ে, করো না ভুল।
চুলের গোছায় নিজেই এবার চালাও কাঁচি,
নিজেই ঝোলাও চুলের বেণি জানলা থেকে —
ভয় পেও না, বেণি বেয়ে নামবে সঠিক,
কুমারের নয় দাঁড়াও এবার নিজের পায়ে।
কন্যা তুমি ভুল করো না ছোট্ট জলকন্যার মত–
জলের নিচে মাছের লেজের অবাধ সন্তরণ!
কেন করবে কারো জন্য তার বিসর্জন?
মগ্ন যখন হবে কুমার আরেক সুন্দরীতে,
একা তুমি, তুমিই শুধু পুড়বে মনস্তাপে!
মেয়ে, তোমার দোহাই লাগে মোয়ানা হও–
পথের মাঝে মাউই ফেলে যাক না চলে,
এবার তুমি নিজেই তারা চিনতে শেখো,
নিজেই নিজের তরী বেয়ে যাও সুদূরে।
বাদাম রঙা ত্বকে তোমার স্বমহিমায়
মলিন হবে স্নো হোয়াইটের উজ্জ্বলতা!
উড়োখুড়ো তোমার চুলে খেলবে বাতাস,
রাপুনজেলের গোছানো চুল হার মানাবে,
তোমার চোখের একাগ্রতায় ভয় পাবে সব,
এই চরাচর তোমার পায়ে লুটিয়ে রবে।
আজও তোমার মনের আগল খুলবে না মেয়ে?
সাজসজ্জার আয়নাটা আজ দাও না ফেলে,
আর কতদিন মোমমসৃণ রাখবে তোমার পা?
এবার তোমার দুই পা রাখো মাটি ধুলোয়।
মেয়ে, তুমি আর কতদিন রবে বনসাই?
দোহাই লাগে, এবার তুমি মাথা তোল,
এবার তুমি নিজের পায়ে হাঁটতে শেখো,
এই পৃথিবী দেখুক, তুমি বৃক্ষ হও।

 

লেখকঃ ডাঃ মৌলি আখন্দ, কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন