শীতল ছোঁয়া

 

এতটা নিবিড়ভাবে করেছিল আলিঙ্গন দেহ মনে
অদৃশ্যে তুলেছে স্বচ্ছ প্রাচির আমি দেখেছি নয়নে!
খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি শীতল ছোঁয়া
ছিন্ন করেছিল সব বন্ধন আর জীবনের মায়া!

সবটুকু শক্তি করেছে নিঃশেষ হয়েছি নিথর
জীবনকে ঢেকে দিয়েছিল মৃত্যুর চাদর!
দেহতরীর জোড়ায় জোড়ায় ডুকছে জলের কণা
জীবনের সামনে মরণ এসে তুলেছে নিজ ফণা!

থেমে যায় যায় সব কোলাহল নিঃস্তব্ধ চারপাশ
নিথর নয়নে চেয়ে দেখছি আর ছাড়ছি দীর্ঘ শ্বাস!
ছেড়েছি ভবের মায়া জীবনের সব আশা
ভেবেছি বদলাবে জীবন বদলাবে নিজ বাসা!

সব স্বজনের চোখে জল মুখে আফসোস করে
ভেবেই নিয়েছে সবাই যাচ্ছি ওদের ছেড়ে!
জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে
কতটা নির্মম হয় সেই সত্য দেখেছি চেয়ে!

অথচ! এই ঠুনকো জীবনের কত স্বাদ ও সাধনা
জীবন শেষ হয় তবু আশা ফুরায় না!
চোখ হয় জ্যোতিহীন স্বপ্নের হয়না শেষ
জীবন সায়াহ্নে এসেও রয় বাঁচার খায়েশ!

খুব কাছ থেকে অনুভব করেছি মৃত্যুর অনুভূতি
বেলা শেষে মিলাতে চেয়েছি জীবনের লাভ-ক্ষতি!
সব অঙ্ক মিলেনা আফসোস থেকে যায় মনে
তবুও জড়াতে হয় মৃত্যুর আলিঙ্গনে!

বাঁচার স্বাদ বড় বিচিত্র স্বাদ শেষ হয়না যার
রাত ফুরায় নিজ গতিতে ফুরায় না আঁধার!
যেতে যেতেই ফিরে আসা বিধাতার দয়ায়
বুঝেছি কষ্ট কতটা হয় সেই শীতল ছোঁয়ায়!

 

হোসেন মিন্টু- কবিও সাহিত্যিক  

আরও পড়ুন