বাবুই পাখির সংসার 

মুহাম্মদ ফারহান ইসলাম নীল 

আচ্ছা আপনি বিয়ের পরও আমাকে এতোটাই ভালোবাসবেন ?

হুম ৷

সত্যি বলছেন তো ?

হুম সত্যি বলছি ৷

আমার মাথায় হাত রেখে বলুন ৷

এই নাও তোমার মাথায় হাত রেখে বললাম বিয়ের পর তোমাকে অনেক ভালোবাসবো ৷ আমার ঘরের রানী বানিয়ে রাখবো ৷

তাহলে চলুন বিয়ে করে ফেলি ৷

এখন ?

হুম এখনি ৷

তাহলে চলো আমাদের বাড়িতে ৷ আমার মা , বাবার সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেই ৷ তারপর তোমাদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো ৷

হাফসার সাথে দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেম করার পর একদিন বিকাল বেলা ওর সাথে এমন কথা হলো ৷ এরপর ওকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এলাম ৷ বাড়িতে শুধু মা জানতো আমি একটি মেয়েকে পছন্দ করি ৷ কিন্তু কখনো সেই মেয়েটিকে দেখেনি ৷ মাকে অাগেই বলে রেখেছিলাম বিয়ে যদি করতেই হয় তাহলে হাফসাকেই করবো ৷

হাফসাকে বাড়িতে এনেই একটু ঝামেলায় পড়ে গেলাম ৷ হঠাৎ করেই একটা মেয়েকে বাড়িতে এনেছি বাবা অামার উপর খুব রেগে অাছে ৷ মা কিছু বলতে পারছেনা ৷ শুধু আমাকে চোখের ইশারায় বুঝাতে চেষ্টা করছে আমি যেন হাফসাকে আমার রুমে রেখে আসি ৷
আমি হাফসাকে আমার রুমে রেখে মায়ের কাছে গিয়ে কানে কানে ফিসফিস করে বললাম ,,,,, মা এই সেই মেয়ে যাকে তোমার ছেলে পাগলের মতো ভালোবাসে ৷ যদিও ভালোবাসার কথা বাবার মুখের উপর বলতে পারবো না তাই তোমাকে বললাম ৷ আর বিয়ে যদি করতেই হয় হাফসাকেই করবো ৷ বাকীটা তুমি সামলে নিবে ৷ বাবাকে বুঝানোর দায়িত্ব তোমার ৷

যেভাবেই হোক অামার লক্ষী মা বাবাকে পটিয়ে ফেলেছে ৷ অামার হট মেজাজী বাবা ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে আমাকে ডেকে পাঠিয়ে ৷

আমি ভেজা বিড়ালের মতো বাবার সামনে দাঁড়ালাম ৷

কি ব্যাপার হেলাল স্কুলে গিয়ে এসব করা হচ্ছে ? আমি কি তোকে মানুষের মেয়ের সাথে ইটিপিটু করার জন্য এতো টাকা খরচ করে স্কুলে পাঠাই ?

ঐ সময় বাবার মুখে যা অাসছিল তাই বলছিল ৷ আমি বাবার একটি কথারও জবাব দেইনি ৷
অবশেষে বাবা অামাকে বললো ,,,, মেয়েটাকে ডেকে নিয়ে আয় ৷
আমি খুশির ঠেলায় নাচতে নাচতে অামার রুমে গিয়ে হাফসাকে নিয়ে এলাম বাবার সামনে ৷
বাবার হাফসার সম্পর্কে জানতে চাইলো ৷
যেভাবে চাকুরীর ইন্টারভিউ নেওয়া হয় ঠিক সেভাবেই বাবা হাফসার ইন্টারভিউ নিলো ৷ ভয়ে অামার বুক কাঁপতেছিল ৷ যদি হাফসাকে বাবার পছন্দ না হয় তাহলে আমার কি হবে ? আমি তো হাফসাকে ছাড়া মরেই যাবো ৷
মনে মনে অাল্লাহকে ডাকছিলাম ৷

প্রায় এক ঘন্টার মতো বাবা এবং হাফসার কথা হলো ৷ তারপর বাবা আমাকে বললো ,,,,,, যা হাফসাকে ওদের বাড়ি অব্দি পৌঁছে দিয়ে আয় ৷

মনে হলো আমি প্রাণ ফিরে পেলাম ৷ কেন জানি খুব খুশি খুশি লাগছিল ৷

আমাদের বাড়ি থেকে যখন হাফসাদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হলো হাফসার বাবা মানে আমার হবু শ্বশুড় হাফিজুর রহমান রাজী হয়ে গেলেন ৷ আমি বুঝতে পারছিলাম শ্বশুড় মশাই বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো মাত্র কেন রাজী হয়েছিলেন ৷
রাজী হওয়ার একটা কারণও ছিল সেটা পরে বলবো ৷

অাজকের দিনটি আমার কাছে ঈদের দিন ৷ কারণ আজ আমার বিয়ে ৷ যে মানুষটাকে দীর্ঘ পাঁচ বছর যাবৎ ভালোবেসে আসছি সে মানুষটাকে আজ থেকে আমার জীবন সঙ্গী হিসেবে খুব কাছে পাবো ৷ তার সাথে শুরু করবো নতুন জীবন ৷ ভাবতেই অবাক লাগছে যে হাফসার সাথে দেখা করার জন্য রোজ বিকেলে তিন কিলোমিটার পথ সাইকেল চালিয়ে ওদের গ্রামে যেতাম ৷ আর সেই হাফসা কিনা এখন থেকে আমার সাথে ঘুমাবে ৷ এই কথা ভাবতেই মনের ভিতর রঙিন রঙিন ফুল ফুটছে ৷

মহা ধুমধামে বিয়েটা হয়ে গেল ৷ বাড়ি ভর্তি অনেক অাত্মীয় স্বজন ৷ সবাই অনেক খুশি ৷ সবচেয়ে বেশি খুশি হলাম আমি ৷ আমার কেন জানি মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষটা আমি ৷ জানি না কেন এমনটা মনে হচ্ছিল ৷

রাত দশটা আমি রুমে ঢোকা মাত্রই হাফসা সালাম দিলো ৷ আমি সালামের জবাব দিলাম ৷ হাফসা বিছানা থেকে নেমে আমাকে বললো ,,,,,, চলুন ওযু করে এসে নামায পড়ি ৷

ওযু করে এসে দুজনে দুই রাকাত নফল নামায পড়লাম ৷

বাসর রাতটা ভালোই কাটলো ৷ শুরু হলো আমাদের নতুন জীবন ৷
মা , বাবার তৃতীয় সন্তান ছিলাম বলেই মা ,বাবাকে আমাকে খুব ভালোবাসতো ৷এবং হাফসাকেও সবাই অাদর করতো ৷ সবচেয়ে বেশি আদর মা ৷ কারণ হাফসা আমাকে অাপনি করে বলতো ৷ তাই মায়ের কাছে হাফসা ছিল বাড়ির বাকী দুই বউয়ের চেয়ে আদরের পাত্রী ৷

বিয়ের দুই বছরের মাথায় আমাদের ঘরে এলে একটি জান্নাতের পরী ৷ যদিও হাফসা দেখতে অতোটা ফর্সা ছিলনা ৷ কিন্তু খুব সুন্দরী ছিল ৷
আমাদের ভালোবাসার উপহার পরীর নাম রাখা হলো সাকিবা ৷

মেয়ে হয়ে বেঁচে থাকা কতটা কষ্টের সেটা বুঝেছি
যেদিন হাফসার পেটে ব্যথা শুরু হলো ওকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো ৷ ডাক্তার বলছিল সিজার করাতে হবে ৷
আমি তখন ডাক্তারকে কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না ৷ এদিকে মা , বাবা দুজনেই কাঁন্না করতেছিল ৷ আমার চোখ থেকেও অশ্রু ঝরছিল ৷
অামি হাফসার হাত ধরে রেখেছিলাম ৷
হাফসা বলেছিল ওকে যেন সিজার না করানো হয় ৷ খুব যন্ত্রনা হচ্ছিল ৷
ওর চোখ দিয়েও অশ্রু ঝরছিল ৷

সাতটি বছর ওর সাথে কাটিয়েছি ৷ কোনো দিন হাফসার চোখে অশ্রু দেখিনি ৷ সেদিন হাসপাতালে প্রথম অশ্রু ঝরতে দেখেছি ৷ আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল ৷ হাফসা বারবার বলছিল অামাকে যেন সিজার না করানো হয় ৷ আমার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল ৷ অার বিড়বিড় করে বলছিল ,,,,,, আমি যদি মরে যাই আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন ৷ মাঝে মাঝে আমার মা ,বাবার খোঁজ খবর নিয়েন ৷ ওনাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন না ৷ আমি ওপারে গিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো ৷ যদি কখনো নিজেকে একা একা মনে হয় তাহলে বিয়ে করে নিয়েন ৷ অামার জন্য কাঁন্না করবেন না ৷ নামায পড়ে দোয়া করবেন ৷

সেদিন হাসপাতালে হাফসার মুখে ওসব কথা শুনে আমি হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম ৷ মনে হচ্ছিল কেউ আমার কলিজা কেটে নিয়ে যাচ্ছে ৷ এখনি হয়তো আমি ছটফট করতে করতে মরে যাবো ৷

ধুর পাগলী তোমার কিছু হবে না ৷ আল্লাহর উপর ভরসা রাখো ৷

ও শুধু বারবার বলছিল আমাকে যেন সিজার না করানো হয় ৷

আমি ডাক্তারকে অনুরোধ করলাম যাতে সিজার না করানো হয় ৷

দীর্ঘ দুই ঘন্টা পর নার্স এসে আমাদের সংবাদ দিলো হেলাল সাহেব আপনি বাবা হয়েছেন ৷ আপনার স্ত্রী একটি পরীর মতো মেয়ে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ৷

নার্সের মুখে বাবা হওয়ার কথা শুনেই মহান আল্লাহর নিকট লক্ষ কোটি শুকরিয়া অাদায় করলাম ৷
অামার মা, বাবাও খুব খুশি হলেন ৷ বাড়িতে ভাই ,ভাবীদের সংবাদ দেওয়া হলো ৷ সবাই হাসপাতালে আমার মেয়েকে দেখতে এলো ৷

হাফসা সাকিবাকে নিয়ে বারান্দায় বসে ছিল ৷ আমি অফিস থেকে ফিরেছি ৷ আমাকে দেখা মাত্রই হাফসা চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে বললো ,,,,,, আপনি এখানে বসেন আমি আপনার জন্য শরবত বানিয়ে অানছি ৷ কি অবস্থা হয়েছে শরীরের অফিসে কাজের খুব চাপ বুঝি ?

অন্য দশটা মানুষের স্ত্রী কেমন সেটা আমার জানা নেই ৷ কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমি গর্ব করতে পারি ৷ সাকিবা জন্ম নেওয়ার ছয় মাস পরেই বাবা বিশ হাজার টাকা দিয়ে আমাকে আলাদা করে দিয়েছে ৷
এতোদিন বাবার সংসারে থেকেছি ,খেয়েছি কোনো চিন্তা ছিলনা ৷ কিন্তু যখনই আমাকে আলাদা থাকতে বলা হলো তখনই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ৷ কি করবো বুঝতে পারলাম না ৷

অলশেষে উপায় না পেয়ে হাফসাকে নিয়ে চলে এলাম রঙের শহরে ৷
এই রঙের শহরে পরিচিত কেউ ছিল না ৷ অনেক কষ্টে একটি বাসা ভাড়া নিলাম ৷ এরপর চাকুরী খোঁজার পালা ৷ এই রঙের শহরে চাকুরী খোঁজা মতো কঠিন কাজ আর একটিও নেই ৷
যাই হোক মহান আল্লাহর রহমতে একটি চাকুরী হয়ে গেল ৷ বেতন অাট হাজার টাকা ৷ হাজিরা বোনাস , যাতায়াত ভাড়া হাবিজাবি মিলে মাসে দশ হাজার টাকা পাওয়া যাবে ৷

অামি হাফসাকে বললাম সংসার এখন তোমার হাতে ৷ দশ হাজার টাকায় সংসার চালাতে পারবে তো ?

হাফসা হাসি মুখে জবাব দিলো ,,,,, দশ হাজার টাকা লাগবে না ৷ আপনি প্রতি মাসে অামাকে পাঁচ হাজার করে টাকা দিবেন ৷ আমি আপনার সংসার দিব্বি চালিয়ে নিবো ৷

বাকী পাঁচ হাজার টাকা কি করবে ?

তিন হাজার টাকা মা , বাবার জন্য পাঠাবেন ৷ আর দুই হাজার টাকা সাকিবার নামে ব্যাংকে জমা রাখবেন ৷

হাফসার হিসাব দেখে আমি অবাক হলাম ৷ আমার মা, বাবা অথচ আমার থেকে ওর চিন্তাই বেশি ৷ মা , বাবাকে টাকা পাঠানোর কথা আমার মনেই ছিলনা ৷ কিন্তু হাফসা ঠিক মনে রেখেছে ৷
একটু কাছে অাসবে ?

কেন বলুন তো ?

কাছে এলেই বুঝতে পারবে ৷

হাফসা আমার কাছে আসে ৷ আমি ওর ঘেমে যাওয়া কপালে চুমু খাই ৷

এই না হলো আমার লক্ষী বউ ৷ এভাবেই আমাকে সারাজীবন ভালোবেসো ৷

আপনিও এভাবে আমাকে আগলে রাখবেন ৷

আমার প্রতি হাফসার কোনো অভিযোগ ছিল না ৷ ওর প্রতি আমারও কোনো অভিযোগ ছিলনা ৷ আমরা ছিলাম পৃথিবীর একমাত্র সুখী পরিবার ৷
সাকিবার জন্মের আগে হাফসা আমাকে যতোটা ভালোবাসতো সাকিবা জন্মের পর ওর ভালোবাসা আরো বেড়ে গেছে ৷

অফিসের কাজ খুব কষ্টের তাই না ?

না তো ৷ কেন ?

আমার তো মনে হয় খুব কষ্টের ৷ আপনি বরং চাকুরীটা ছেড়ে দিন ৷
বাবাকে বলে কিছু টাকা ধার নেই ৷ আপনি একটি ব্যবসা শুরু করুন ৷ আপনার ঘামে ভেজা শার্ট দেখলে অামার খুব কষ্ট হয় ৷

ধুর পাগলী কি বলে এসব ৷ পুরুষ মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েছি একটু ঘাম তো ঝরবেই তাই না ?

তারপরও রোজ রোজ অাপনার ঘামে ভেজা শার্ট দেখলে আমার কাঁন্না পায় ৷ আমি সহ্য করতে পারিনা ৷

আমি হাফসাকে বুকে টেনে নেই ৷ কপালে চুমু দিয়ে বলি ,,,,, শ্বশুড় মশাইয়ের কাছে টাকা নিলে আমার সম্মান থাকবে ? তাছাড়া শ্বশুড় মশাই কোথায় টাকা পাবে ?

ও নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না ৷ অামি বাবাকে বলবো ৷ অাপনি শুধু হ্যাঁ বলুন ৷

না থাক ৷ এখন কষ্ট করে চাকুরীটা করি ৷ যখন দেখছি পারছিনা তখন না হয় নিবো ৷

বিয়ের হাফসা কখনোই আমার কাছে কোনো কিছুর আবদার করেনি ৷ ও অল্পতেই সন্তুষ্ট ছিল ৷ বিয়ের আগে ওর সাথে যখন দেখা করতে যেতাম তখন লাল গোলাপ নিতাম ৷ ওর লাল গোলাপ প্রিয় ৷
একদিন বিকাল বেলা ও বলেছিল আমাকে একটি হলুদ শাড়ি কিনে দিবেন ?
আমার খুব হলুদ শাড়ি পরতে ইচ্ছা করছে ৷
মায়ের আঁচল ধরে কাঁন্না করে পাঁচ টাকা নিয়েছিলাম ৷ সেই টাকা দিয়ে হাফসাকে একটি হলুদ শাড়ি কিনে দিয়েছিলাম ৷ ওর সাথে পাঁচ বছর রিলেশনে ওটাই ছিল বড় উপহার ৷

বিয়ের পর সেভাবে কিছু উপহার দেওয়া হয়নি ৷ হাফসাও মুখ ফুটে কিছু আবদার করেনি ৷

আমি জানতাম ও আমার সংসারটাকে কতটা ভালোবাসে ৷ আমার প্রতি ওর যতোটা ভালোবাসা আছে ঠিক ততোটাই ভালোবাসে আমার এই ছোট সংসারটাকে ৷

সাকিবা কথা বলতে শুরু করেছে ৷ আমি অফিসে গেলে নাকি ওর মাকে বলে আব্বু আব্বু ৷
আমি অফিস থেকে ফিরে এলেই হাফসা বলে ,,,, কাল থেকে আপনার কলিজার টুকরা আম্মুটাকে অফিসে নিয়ে যাবেন ৷ আমি আর সামলাতে পারছিনা ৷ সারাদিন শুধু আব্বু আর আব্বু ৷ মায়ের নাম মুখেই নেয়না ৷ আমি কি অপরাধ করেছি বলুন তো ? সাকিবা যেভাবে অাব্বু আব্বু বলে মনে হচ্ছে দশ মাস দশদিন ও আপনার পেটেই ছিল ৷

আমি হাফসার কথা শুনে হাসতে থাকি ৷ আমাকে নিয়ে আমার নিজেরই গর্ব হয় ৷ হয়তো আগের জন্মে কোনো ভালো কাজ করেছিলাম নয়তো আমার জীবনে হাফসার মতো একজন সঙ্গী পেলাম কিভাবে ?
একজন পুরুষ কখন নিজেকে সুখী বলে দাবী করতে পারবে জানেন ?
যখন তার জীবনে একজন আদর্শ স্ত্রী থাকবে ৷ যে স্ত্রী তার স্বামীকে দুনিয়ার সব জিনিষের চেয়ে স্বামীকে বেশী ভালোবাসবে ৷
মহান আল্লাহ শুধু জান্নাতেই সুখ ,শান্তি রাখেননি ৷ দুনিয়াতেও কিছু সুখ ,শান্তি আছে ৷
সেই সুখ ,শান্তি হলো একজন আদর্শ নারীতে ৷
একজন পুরুষ তখনই পৃথিবীর অর্ধেক সুখ পাবে যখন তার জীবনে একজন অাদর্শ স্ত্রী আসবে ৷

আমি সাকিবাকে কোলে তুলে নেই ৷ হাফসা আমার জন্য শরবত আনতে যায় ৷
সাকিবা দুহাতে আমার নাক খামচে ধরে আর আব্বু আব্বু বলে ডাকে ৷

হাফসা শরবত এনে আমার হাতে তুলে দেয় ৷ আমি অর্ধেক শরবত হাফসাকে খাইয়ে দেই বাকী অর্ধেক আমি খাই ৷

রাত গভীর হয় ৷ আমার কলিজার টুকরা জান্নাতের পরী মেয়েটা ঘুমের দেশে হারিয়ে যায় ৷
আমি হাফসার বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বেহেশতের সুখ খোঁজার চেষ্টা করি ৷

আরও পড়ুন