কিভাবে আপনার লেখাকে আকর্ষণীয় করে তুলবেন?

সুইটি শিলা

আজকের এই লেখাটি একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমি যেসব বিষয় অনুধাবন করেছি তার আলোকে লিখছি। আমি প্রায়ই লেখালেখি করে থাকি, তবে লেখালেখির চেয়েও আমার পড়ার হার অনেক বেশি। ফেসবুকে ব্যয় করা সময়টা আমি বিভিন্ন বিষয় পড়ে কাটাই। পৃথিবীতে সব চেয়ে দামি জিনিস হলো সময়। বলা হয়ে থাকে ‘সময় এবং স্রোত’ কারো জন্য অপেক্ষা করেনা। তাই সময়কে কোনভাবে অপচয় না করে সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগানোই শ্রেয়। তাই ফেসবুকে ব্যয় করা সময়টাও আমি কাজে লাগানোরই চেষ্টা করি।

ফেসবুকে, বিশেষকরে পাঠশালায় লেখালেখির সুবাদে অনেকেই আমাকে ইনবক্সে জিজ্ঞেস করেন, “আপু, আমি কিভাবে ভালো লিখতে পারি। অথবা লিখতে চাই কিন্তু কিভাবে শুরু করব তা বুঝি না। আমার আজকের লেখাটা তাদের জন্যই। তবে ভালো লেখকরা আমার এই সামান্য লেখাটি এড়িয়ে যেতে পারেন কিন্তু।
—————————————–

ভাল লেখক হওয়ার মুলমন্ত্র কি? চাইলেই আপনি ভাল লেখক হতে পারবেন?পারবেন না। ভাল লেখক হতে গেলে আপনাকে অবশ্যই অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আসতে হবে? রুপকথার গল্পগুলোতে রাজকুমার যেমন সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে তার স্বপ্নের রানীকে খুঁজে পেতে চায়,ঠিক তেমনি ভাবে আপনাকেও সেই সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে একজন ভাল লেখক হবার বাসনা থাকতে হবে। হ্যাঁ, আপনি চাইলেই দুই কলম লিখতে পারেন। আর একবিংশ শতাব্দীতে এসে এই পথটা অনেকটাই সোজা হয়ে গেছে। আপনি চাইলেই আপনার ফেসবুক ওয়ালে এসে খাসা করে দুই চার লাইন লিখতেই পারেন? যা মনে হবে তাই লিখলেন, মনের মাধুরী, দিপিকা, প্রিয়াঙ্কা, ক্যাটরিনা সব মিশিয়ে লিখে ফেললেন। কয়েকটা লাইক কমেন্ট ও কামাই করে ফেললেন। তাহলেই কি আপনি একজন ভালো লেখক হয়ে গেলেন?

ভালো লেখক হবার পূর্ব শর্ত কি জানেন? আগে নিজেকে ভাল পাঠক হিসেবে তৈরী করুন। অন্যের লেখাগুলোকে নিবিষ্ট চিত্তে নিজরে অন্তরে ধারন করুন। বুঝতে চেষ্টা করুন লেখক কি বুঝিয়েছেন। ধরুন আপনি একটা বই পড়ে শেষ করে ফেললেন,এবার সেই বইটি সম্পর্কে নিজে কিছু লেখার চেষ্টা করুন। আপনার লেখাটি হয়তো লেখকের মত শক্তিশালী হবে না, কিন্তু আপনি নিজের ভাষায় নিজের মত করে লিখতে চেষ্টা করুন। যদি আপনি তা করতে না পারেন তবে ধরেই নিতে পারেন আপনার সেই বই টি পড়াই হয় নি। এই কথাটি কিন্তু আমি বলি নি, বলেছেন জ্ঞানতাপস জাতীয় অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় আব্দুর রাজ্জাক স্যার।

এটিই আপনার লেখক হবার পূর্ব শর্ত বলেই আমি মনে করি। আপনি যত বেশি গভীর মনোযোগ এবং নিবিষ্ট চিত্তে নিবিড়ভাবে পড়বেন ততবেশি আপনার লেখার ভিতটা শক্ত হবে।

চলুন দেখি কি কি উপায়ে আপনার লেখাটি আকর্ষণীয় করা যায়।

ধাপ-০১
——————–
লেখালেখি করতে চাইলে কিংবা ভালো লিখতে চাইলে শুরুতেই আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, ‘পড়া’। পড়ুন, পড়ুন, এবং পড়ুন। আপনি তখনই একজন ভাল লেখক হবেন যখন আপনি একজন ভালো পাঠক হবেন। গভীর ও নিমগ্ন পাঠক হতে হবে। বুঝে বুঝে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে হবে, বিশ্লেষণী ভঙ্গিতে পাঠ করতে হবে। লেখক তার লেখায় যে রস লুকিয়ে রেখেছেন তা খুঁজে বের করে আস্বাদন করতে হবে।

ধাপ-০২
———————–
আপনি যে বিষয়ে লিখতে চান সে বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করুন। ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে আর যাই হোক, ভালো লেখক হওয়া যায় না।

ধাপ-০৩
——————–
যখন যে বিষয় মাথায় আসবে তা নিয়ে ভাবুন এবং আপনার ভাবনাকে লেখায় প্রতিফলিত করুন। প্রতিদিন লেখার চেষ্টা করুন।

ধাপ-০৪
——————–
লেখা শেষ হবার পর সেটিকে বারবার পড়ুন। লেখার ত্রুটিগুলোকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। অর্থাৎ পাঠকের দৃষ্টিতে আপনি আপনার লেখাটিকে পড়ুন।

ধাপ-০৫
———————–
নিজের লেখার সমালোচক নিজেই হোন। অর্থাৎ আপনিই পাঠক আপনিই লেখক।

ধাপ-০৬
———————–
আপনি যে বিষয়ে লিখছেন সে দিকেই নির্দেশ করুন। অর্থাৎ এক বিষয়ে লিখতে গিয়ে, লেখার মাঝপথে গিয়ে যেন আপনার লেখা খেই হারিয়ে না ফেলে। লেখার মূল বিষয়েই স্থির থাকুন।

ধাপ-০৭
———————-
ঢালাউভাবে না লিখে প্যারা করে লিখুন। ঘিঞ্জি লেখা হলে পাঠক তা এড়িয়ে যেতে পারে।

ধাপ-০৮
———————–
প্রতিটি উপ শিরোনাম দেবার পর একটি স্পেস দিয়ে, সে সম্পর্কে লিখুন।

ধাপ-০৯
—————–
একটি বাক্য শেষ করে আরেক বাক্য শুরুর সময় দাঁড়ির পরে একটি স্পেস দিন।

ধাপ-১০
—————-
আপনার পুরো লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। বানান ভুল থাকলে তা ঠিক করুন। বানান ভুল পাঠকের বিরক্তির কারন হতে পারে।

ধাপ-১১
—————–
যদি আপনি প্রথম প্রথম লিখতে শুরু করেন তবে লেখার সাবলীলতার দিকে খেয়াল রাখুন।

ধাপ-১২
—————
সর্বোপরি, লেখাটিকে বারবার পড়ে, পাঠকের দৃষ্টিতে দেখুন এবং সাজানোর চেষ্টা করুন।

লেখাটি নিতান্তই আমার অভিজ্ঞতা এবং অনুধাবনের ফল। আমার লেখাটির সাথে অনেকেই একমত হতে নাও পারেন। তবে লিখতে গিয়ে এবং অন্যের লেখার পাঠক হিসেবে আমি যা অনুধাবন করেছি, তারই ফলস্বরুপ লেখাটি লিখলাম।

লেখকঃ কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন