তাগিদে ‘ই’, অবস্থানে ‘য়’

জসিম উদ্দিন বিজয়

বক্তার সব কথাই সমান গুরুত্বপূর্ণ নয়। কথা শোনার সময় মাঝে মাঝে কোনো কোনো কথাকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। যেটা বক্তা তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলে থাকেন। আর এটাকে তাগিদও বলা চলে।
যেমন, দিলরুবা বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কলেজ অডিটোরিয়ামে বক্তব্য দিচ্ছে। সে তার বক্তব্যে বললো—
আমরা সবাই মিলে গাছ লাগাবই
এবং এই বিপ্লবের মাধ্যমে বিশ্বকে সবুজ করে তুলবোই।

লক্ষ করুন, দিলরুবার বক্তব্যের যে খণ্ডাংশ এখানে দেখতে পাচ্ছেন তার মধ্যে দুটো শব্দে অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে ‘ই’ যুক্ত হয়েছে। আর তা হলো লাগাবই এবং তুলবোই। এখানে বক্তা ক্রিয়াপদকে জোরালো করার জন্য ‘ই’ ব্যবহার করেছেন। এ দ্বারা কাজটির প্রতি তাগিদ করতে গিয়ে শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছেন।
শুধু যে ক্রিয়াপদেই জোর দেওয়ার জন্য ‘ই’ ব্যবহৃত হয় এমনটি নয়, কর্তায়ও এমন ব্যবহার লক্ষণীয়। যেমন, আফজাল হুসাইন তরুণ শিক্ষার্থীদের উৎসাহী করার জন্য বললো—
আমরাই হব সেরাদের সেরা মেধাবী!

সর্বনাম পদেও তাগিদ অর্থে ‘ই’ ব্যবহৃত হয়। যেমন—
আমার সাথে তারাই যাবে ঢাকা।

বিশেষণ পদে ‘ই’ ব্যবহার—
তুমি নীল শাড়ি পরলে সুন্দরই দেখায়।

#য়
কোনকিছুর মধ্যে অবস্থান বোঝাতে বক্তা ‘য়’ ব্যবহার করে থাকেন। যেমন—

এখন #ঢাকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে।
#তোমায় রাখবো আমার স্বপন সব।
#আমায় তুমি কাঁদতে দেখো না।

উপরোক্ত তিনটি বাক্যে যথাক্রমে ঢাকায়, তোমায়, আমায় শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়েছে, যাতে অন্তে ‘য়’ আছে।

প্রথম বাক্যে ঢাকায় বলতে বোঝানো হয়েছে ঢাকার মধ্যেই। অর্থাৎ ঢাকার মধ্যে/বা ঢাকার ভেতরে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে।

দ্বিতীয় বাক্যে তোমায় বলতে তোমার মধ্যে/ভেতরে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ তোমার মধ্যে/ভেতরে রাখবো আমার স্বপন সব।

তৃতীয় বাক্যে আমায় বলতে আমার মাঝে/উপর বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আমার মাঝে তুমি কান্না দেখো না অথবা আমাকে তুমি কাঁদতে দেখো না।
লক্ষ করুন, তিনটি বাক্যেই নানাভাবে অবস্থান বোঝাতে ‘য়’ ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ অবস্থান বোঝাতে শব্দের শেষে ‘য়’ ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, কোনো কোনো শব্দেই স্বভাবত ই থাকে। যেমন— সবাই, ভাই, জামাই, আত্রাই, যাচাই, বাছাই, নাটাই, খেই, নাই/নেই, ইত্যাদি ।
স্বভাবতই ‘য়’ হয় এমন শব্দও আছে। যেমন— হায় হায়, আয়, ব্যয়, ইত্যাদি।

আবার কখনো কখনো অবস্থান ও তাগিদ পাশাপাশি একত্রে থাকে। তখন একই সাথে ‘য়’ এবং ‘ই’ ব্যবহার করা হয়। যেমন— বাসায়ই বিদ্যুৎ নাই আবার আঙিনায় !

আমরা অনেক সময় এ দুটোর সঠিক অবস্থা না জেনে এলোমেলো করে ফেলি। যেমন— ক্লাস ক্যাপ্টেন সোহেল রানা অনলাইন গ্রুপে স্ট্যাটাস দিলো—

আজ প্রথম ক্লাস হবে #১০টাই। সেতাউর স্যারের ক্লাস তো। #সবায় পড়া #শিখেয় এসো কিন্তু। আমি একটু বাসাই আছি।

অথচ এটা এমন হতো—
আজ প্রথম ক্লাস #১০ টায়(অবস্থান অর্থে ‘য়’)। সেতাউর স্যারের ক্লাস তো। #সবাই (স্বভাবতই ‘ই’) পড়া #শিখেই (তাগিদ অর্থে ‘ই’) এসো কিন্তু। আমি একটু #বাসায় (অবস্থান অর্থে ‘য়) আছি।

আরো কিছু উদাহরণ—
✅ জনি হোসেন ছড়ায় লিখে বাংলাদেশের কথা
❌ জনি হোসেন ছড়াই লিখে বাংলাদেশের কথা।

✅ গ্রাম পেরিয়ে হাট পেরিয়ে ঘুরছে নদী বাঁয়
❌ গ্রাম পেরিয়ে হাট পেরিয়ে ঘুরছে নদী বাঁই।

✅ ছবি তোলাই অধিক প্রিয় অভি’র
❌ ছবি তোলায় অধিক প্রিয় অভি’র।

✅ তোমায় আমি রাখবো মহা আদরে।
❌ তোমাই আমি রাখবো মহা আদরে।

জসিম উদ্দিন বিজয়
শিক্ষার্থী,রাবি

লেখকঃ ছড়াকার,  কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন