ব্যাংকে যোগ্য প্রার্থীর সংকট নাকি অন্য কিছু?

।। জামান শামস ।।
বেসরকারি খাতের ৪৬ শতাংশ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ করতে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাচ্ছে না। এ ছাড়া চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘাটতিও কর্মী নিয়োগে অন্যতম বাধা।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার ‘দক্ষতার ঘাটতি ও বাংলাদেশে যুব কর্মসংস্থান’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠানে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ১০০ নিয়োগকর্তা ও ৫০০ চাকরিপ্রত্যাশীদের অনলাইনে সাক্ষাৎকার নিয়ে এ গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে সিপিডি। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
বলাবাহুল্য যে, প্রাইভেট ব্যাংকগুলোতে কর্মকর্তা নিয়োগ, পদায়ন ও প্রমোশনে অযাচিত হস্তক্ষেপ এর অন্যতম একটি কারণ অথচ সিপিডি সেটি এড়িয়ে গেছে।সিপিডি তার গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান এবং টিম ওয়ার্ক ও লিডারশিপ বিষয়ে দক্ষতা আশা করে। কিন্তু এসব বিষয়ে তেমন দক্ষ লোক পাওয়া যায় না। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দক্ষতারও ঘাটতি রয়েছে। ৫১ শতাংশ চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে যে কোনো ধরনের কাজে যোগদানে আগ্রহের ঘাটতি রয়েছে। ৪৬ শতাংশের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নেই। ৩৫ শতাংশ নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে অক্ষম।
আমার মতে,প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ কখনো ব্যাংক পেশায় আসেনি।গত পাঁচ যুগেও এর কোন প্রমাণ নেই। আর বাংলাদেশে ব্যাংক পেশার ক্ষেত্রে এমন আগাম প্রশিক্ষনেরও কোন ব্যবস্থা নেই। যে টীমওয়ার্ক ও লিডারশীপের অভাবের কথা বলা হয়েছে সেটা কি চাকরীতে যোগদানের আগেই তৈরী হতে পারে ? ব্যাংক পেশায় সাধারণত: স্নানতোকত্তর ছাত্রছাত্রীরাই আসে। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা। কিছু ব্যাংক কমার্স বা এমবিএম/ এমবিএ তালাশ করে। হতেই পারে।তবে এখনো ডাক্তার ও ইন্জিনিয়ারিংকে এই পেশায় সম্পৃক্ত করার নজীর নেই। এমনকি ব্যাংক পেশায় দক্ষতা উন্নয়নে যে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা অর্জনের বাধ্যবাধকতা তাও নিয়োগ লাভের পর।
ব্যাংক পেশায় অভিজ্ঞতা কি কারো আগে হতে পারে ? আমারও কি কোন অভিজ্ঞতা ছিলো? মোটেও না বরং ছাত্রজীবনে ভয়ে ব্যাংকের ত্রিসীমানায়ও পা দিইনি। চরম অপসন্দনীয় থাকার পরও ভাগ্যক্রমে ব্যাংকেই রোজগারের ঠিকানা আল্লাহর পক্ষ থেকে স্থির হয়। এরপর যেটুকু অর্জন সবটুকুই পেশার প্রতি দরদ ও ভালোবাসা থেকে।
আজ ব্যাংক পেশায় সবচেয়ে বড় অভাব পেশার প্রতি দরদ ও ডেডিকেশান।এখানে বড় বড় ডিগ্রী আর সনদের চেয়ে ঐ দু’টি গুণ অনেক বেশী কনট্রিবিউট করে।সাফল্য লাভকারী ব্যাংকগুলোতে জরীপ করে দেখুক সিপিডি।
ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও হস্তক্ষেপ মুক্ত করতে তৃতীয় পক্ষের হাতে এই দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।আপনি স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করে দিবেন,তারা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে আপনাকে চূড়ান্ত তালিকা দিবে।বর্তমানে বহু ব্যাংকে এভাবে নিয়োগ হচ্ছে।প্রত্যেক ব্যাংক নিয়োগের পর ভিত্তিকোর্স করায়।লোকদের পরিমিত দক্ষতা অর্জনে ব্যাংক নিজস্ব ট্রেনিং মডিউল ফলো করে। কোথাও কোথাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সহায়তা দেয়। এগুলো ব্যাংকগুলো স্বউদ্যোগেই করে।
কাজেই ব্যাংকগুলো দক্ষ জনবল পাচ্ছেনা এমনটি আদৌ সত্য নয়।সার্বিকভাবে অন্যান্য প্রাইভেট সেক্টরে এমনটি সত্য হলেও হতে পারে।
লেখকঃ সাবেক অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড
আরও পড়ুন