প্রজ্ঞাবান নারীর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং বাস্তব জীবনে তার প্রভাব

।। রুকাইয়া মুন ।।
হেরার অন্ধকার গুহায় মানবতার মুক্তির দিশারি হয়রত মুহাম্মদ (স:) এর কাছে আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি ও সত্যের আলোকিত বার্তা নিয়ে জিব্রাইল (আ:) হাজির হয়েছিলেন সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত নিয়ে।
‎اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
‎خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ
‎اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ
‎الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ
‎عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ
অর্থাৎ:
পড়ো! তোমার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।
পাঠ করো, তোমার পালনকর্তা মহা দয়ালু,
যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন,
শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।

 

ইসলামে প্রথম আদেশ ছিল জ্ঞানার্জন করার ব্যপারে।এই পাঁচ আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সৃষ্টিকর্তাকে চিনতে , মানুষের জন্মের রহস্য বা কারন জানতে, পালনকর্তার মহত্ব অনুধাবন করতে এবং দুনিয়ায় জীবনযাপনের যাবতীয় কলাকৌশল জানতে আমাদের সার্বক্ষনিক শেখার প্রচেষ্টা থাকতে হবে।
হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ইলম শিক্ষা করা (জ্ঞানার্জন করা) প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর প্রতি ফরজ (কর্তব্য)।’
-উম্মুস সহিহাঈন-ইবনে মাজাহ শরিফ।
এখানে নারী ও পুরুষ উভয়ের কথা বলা হয়েছে।কিন্তু অনেকে পর্দার অজুহাতে নারীদের শিক্ষা থেকে বণ্চিত করেন।কেউবা উদাসীন থাকেন।
কোরআন এবং হাদীসে আল্লাহ ও তার রাসূল যেটাকে অবশ্য কর্তব্য (ফরজ) বলে ঘোষণা করেছেন আর আপনারা সেটাকে বাদ দিয়ে ইসলাম পালন করেন! নিজেদের বুজুর্গী জাহির করেন!
কি আজব খেয়াল?
অথচ মহানবী (সা.) ঘোষণা করেন, ‘যার রয়েছে কন্যাসন্তান, সে যদি তাকে (শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে) অবজ্ঞা ও অবহেলা না করে এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য না দেয়; আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’
একজন কন্যা সন্তানকে ছোট বেলা থেকেই ভালো শিক্ষা দিতে হয়।কারন সে ভবিষ্যতে কারো স্ত্রী হবে, তারপর মা হবে।তার যদি সুশিক্ষা না থাকে তাহলে সে দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে পারবে না, স্বামীর সম্পদ ও সম্মানের হেফাজত করতে পারবে না।যখন সে মা হবে তখন নিজের সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে পারবে না। কারন যার হৃদয়ে আলো (জ্ঞান) নেই সে অন্যের অন্ধকার কিভাবে দূর করবে?
উপরন্তু কুটবুদ্ধি দিয়ে সন্তানদের জীবন জটিল ও বিষময় করে তুলবে।সমস্যার সমাধান না করে বরং গন্ডগোল পাকাবে।ফলে পরিবারে অশান্তি ও ইজ্জতের হানি ঘটবে।
কুরআনে বর্ণিত-
‘তোমরা তাদের (নারীদের) সঙ্গে উত্তম আচরণ করো ও উত্তম আচরণ করার শিক্ষা দাও।’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াত: ১৯)।
একজন নারীর তাকওয়া, দ্বীনদারি, সত্যবাদিতা, দুরদর্শীতা ইত্যাদির কারনে তার পরিবারের সুখ ও সম্মান বৃদ্ধি পায়।
আবার এর ব্যত্যয় ঘটলে নারীর কারনে দুনিয়ায় জাহান্নাম নেমে আসে। অতীতে বহু পরিবার, শহর-নগর, রাজ্য ধংস হয়ে গেছে নারীর জন্য। বর্তমানে পরকীয়ায় আসক্ত নারীর কারনে সংসার ভাঙে, স্বামীর পরনারী আসক্তিতে ভাঙে।স্বামীর মা , বোন, ভাবি এদের জুলুম, ষড়যন্ত্র আর মিথ্যা ছলচাতুরীতে সুখের সংসার ছাই হয়। স্বামী স্ত্রীর দ্বন্দ থেকে খুনোখুনি পর্যন্ত গড়ায়।আবার বহু মেয়ের সংসার নষ্ট হয় মায়ের শয়তানি বুদ্ধির কারনে।
মোটকথা মূর্খ কুটিল হিংসুক নারীই যত অশান্তির মূল।এরা নিজের ঘরে এবং অন্যের ঘরে দুই জায়গাতেই শান্তি বিনাশ করতে পারঙ্গম ।এমন নারী যার ঘরনী তার জীবন জলন্ত চুল্লির ন্যায়।
দুনিয়ায় যা কিছু আছে সবই সম্পদ।তবে যাকে নেককার স্ত্রী দান করা হয়েছে তাকে সবচেয়ে দামী সম্পদ দেয়া হয়েছে।এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
‘দুনিয়া হলো ক্ষণিক উপভোগের বস্ত্ত। আর দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ সাধ্বী নারী।’(-মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)
সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, নবি কারিম (সাঃ) বলেছেন, নিশ্চয়ই পৃথিবীর নেককার স্ত্রী জান্নাতের মাঝে সত্তর হাজার রূপসী হুরদের চেয়েও উত্তম হবে। (আত তাযকিরা: ৫৫৬) সুতরাং কুরআন ও হাদিসের আলোকে বোঝা যায়, স্বামী-স্ত্রীর সুসম্পর্ক দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভেই শুধু জরুরি নয় বরং পরকালের সফলতায়ও খুবই জরুরি।
পরকালে নাজাতের পেতে শুধু নামাজ পড়া আর পর্দা করাই যথেষ্ট নয়।দ্বীনদার নারী অবশ্যই চরিত্রবান হবে।চরিত্র বলতে শুধু সতীত্বকেই বোঝায় না বরং তার সরলতাও (উত্তম স্বভাব) অন্তর্গত।
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- ‘চরিত্রবান, সরলমতী ঈমানদার নারীরা।’ (সুরা নুর : আয়াত ২৩)
আরও পড়ুন