ইসলামী পোষাক (২)

ফাহমিদা নীলা

ইসলামে পর্দা ফরজ। এখন আমাদের জানা দরকার, আসলে ফরজ বলতে কি বোঝায়? ফরজ হল সেটাই যেটা অবশ্যই করণীয়। অর্থাৎ, এখানে অপশনের কোন সুযোগ নেই। আমার ইচ্ছা হলে করলাম, ইচ্ছা না হলে করলাম না, এইটা হল নফল। আমাদের রাসূল (সা:) যেটা করেছেন বা শিখিয়েছেন কিন্তু কোরআনে আলাদা করে নির্দেশ নাই,সেটা হল সুন্নত। আর ফরজ হল সেটা যেটার ব্যাপার আল্লাহ্তায়ালা সুস্পষ্ট ভাষায় কোরআনে নির্দেশনা দিয়েছেন। এটাকে না বলার কোন সুযোগ নাই।

সুতরাং, বুঝতেই পারছেন, পর্দা অবশ্যই করতে হবে মুসলমান ছেলে-মেয়েদের, যদি তিনি ইসলামী বিধি-নিষেধের মধ্যে থাকতে চান। এখন, প্রশ্ন হল,

পর্দা বলতে আসলে কি বুঝায়? পর্দা শব্দ ছোট হলেও এর ব্যাপকতা বৃহৎ। প্রচলিত অর্থে আমরা কেবল পোষাকের পর্দাটাই বুঝি। কিন্তু এছাড়াও রয়েছে চোখের পর্দা, কানের পর্দা, মনের পর্দা ইত্যাদি।

ধীরে ধীরে সেগুলো নিয়ে যতোটা সম্ভব আলোচনা করব। আমি নিতান্তই অজ্ঞ মানুষ এ বিষয়ে। অল্প-স্বল্প যতটুকু জ্ঞান অর্জন করেছি নিজের সুবিধার্থে, ততটুকুই আলোচনা করব আপনাদের সাথে। যদি তা আপনাদের উপকারে আসে,খুশী হব। আর যদি আমার জানার ভুল থাকে, আশা করব, আমার ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে আমার পাশে থাকবেন।

গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছি, ছেলের চোখের পর্দা বিষয়ে। আশা করি, বিষয়টা পরিষ্কার করে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এখন আসি, মেয়েদের চোখের পর্দার বিষয়ে। চোখের পর্দা বিষয়ে যতটুকু সতর্ক ছেলেদের করা হয়েছে, ঠিক ততটুকু সতর্কই করা হয়েছে মেয়েদের। এ বিষয়ে একটি হাদিস আছে।

একদিন রাসূল(স:) বিবিদের নিয়ে বসেছিলেন। সেখানে একজন অন্ধ লোক আসলো। রাসূল(স:) তাঁর স্ত্রীদের ভেতরে যেতে বললেন। হযরত আয়েশা(র:) প্রশ্ন করলেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ্(স:) উনি তো অন্ধ, চোখে দেখেন না! তাহলে আমরা ওনার সামনে পর্দা করব কেন?’ রাসূল(স:) উত্তরে বললেন, ‘উনি না হয় দেখেন না, তোমরা তো তাকে দেখতে পাচ্ছো!’

উক্ত হাদিস থেকে এটা পরিষ্কার যে, মেয়েদের চোখের পর্দার বিষয়েও কড়াকড়ি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর এটা তো বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, দৃষ্টি সংযত করতে পারলে পর্দা রক্ষা করে চলা সম্ভব নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে। একটি হাদিস হতে বর্নিত,

হযরত মুহম্মদ(স:) হযরত আলী(রা:) কে বলেছেন, ‘হে আলী, তোমরা দৃষ্টির পরে দৃষ্টি ফেলো না। হঠাৎ অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টির জন্য তুমি ক্ষমা পাবে। কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য বৈধ নয়।’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবুদাউদ, দারেমী, মিশকাত: ৩১১০)

সুতরাং, প্রথম দুটি পর্ব থেকে আমরা বুঝতে পারলাম যে, পোষাকে শুধু নয়, বরং প্রধান প্রধান ইন্দ্রিয়ের পর্দাও কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ইসলামে। চোখের মত জিহ্বা এবং কানের ব্যাপারেও সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ চাইলেই আমরা জিহ্বা আছে বলেই যা ইচ্ছা তাই বলতে পারব না বা কান আছে বলেই যা খুশী তাই শুনতে পারব না।

এখানে উল্লেখিত সবগুলো হাদিসের সূত্র দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এটা ঠিক, মনগড়া কিছুই আমি বলিনি। হাদিসের সূত্র দিতে হলে যতোটা সময় ব্যয় করতে হবে সেটা আমার পক্ষে সম্ভব না। আর তাছাড়া আমি ছাপানোর উদ্দেশ্যে এগুলো লেখা শুরু করিনি। নিজে জানার জন্য যা কিছু পড়েছি বা বিভিন্ন ওয়াজ-নসিহত থেকে যতোটুকু জেনেছি, তাই উল্লেখ করেছি আপনাদের জন্য। যদিও এটা কতটুকু সবার কাজে লাগবে আমি সন্দিহান। কেননা আগেও বলেছি,আমার জ্ঞান নিতান্তই সীমিত।

অনেকেই হয়তো বলবেন, আমি নিজে কতোটা মানতে পারি! সত্যি বলতে কি, আমার মনে হয় না এখনো পেরে উঠেছি! অনেক ক্ষেত্রে মানতে চেয়েও পারিনা। তবুও চেষ্টা করছি। আল্লাহ্ পাক চাইলে আস্তে আস্তে নিজেকে বদলাতে পারবো ইন শা আল্লাহ্।
১১/০৪/২০২১ ইং

(চলবে)

আগের পর্ব- ইসলামী পোশাক (১)

লেখকঃ সাহিত্যিক ও চিকিৎসক 

আরও পড়ুন