অশনি সংকেত

জেড ইউ আহমেদঃ

প্রজ্ঞাপনের নীল শব্দগুলো
বোধের প্রাচীরে সজোরে আঘাত করে
ধরাশায়ী হয়ে পড়ে পরের ভোরে
বিক্ষুদ্ধ জনতার দাবানল আন্দোলনে,

কত সহিংস ঘটনার পুনর্জন্ম হয়
উন্মুক্ত রাজপথে,
মিছিল মিটিং-এ প্রতিবাদের জোয়ার,
সময়ের সরু গলিপথ হয়ে
হারিয়েও যায় একসময়ে পচা নর্দমাতে।

রংচটা ব্যানারের শব্দগুলো ধুয়ে যায়,
বিভাজিত স্বার্থের অনলে
পুড়ে যায় দিন মজুরের ন্যায্য অধিকার।
সাম্রাজ্য বিস্তারের হাতিয়ার সমুন্নত থাকে চিরকাল,
কালো টাকার দৌরাত্ম্যে
অসহায়ের নীলচোখ উপেক্ষায় উৎকীর্ণ পথে
বটফল তসবিহ গোণে,
চেয়ে থাকে মেঘহীন আকাশের পানে।

শ্লোগান প্রতিধ্বনিত হওয়া ইমারতগুলো গুড়িয়ে দিয়ে
নির্লজ্জ সভ্যতার ক্যানভাসে ব্যাভিচারের উলঙ্গ ছবি আঁকে।

ভূপৃষ্ঠে আবারো নগ্নতার ইতিহাস লিখতে গিয়ে স্তম্ভিত কলমের নিব কেঁপে ওঠে,
জীব আর জড়ের পার্থক্যে
লোভতুর হায়েনারা এখন অংকের সমীকরণ সূত্রগুলো পাল্টাতে বসেছে।

প্রতারণার বিশাল রাজত্বে বিশ্বাসের সুবচন শব্দমালা এখন বুঝি আদিখ্যতার সাময়িক উপঢৌকন হয়েছে।

তুমি বুঝি, ধ্বংসের ডামাডোল ধ্বনি শুনতে পাও না, আদিম মানুষের গুহাতে বসে,
পৃথিবীর মানচিত্র ক্রমশ পাল্টে যাচ্ছে,
বালুর সমুদ্রের নীরব আগ্রাসন, আর
নিয়নভঙ্গের জলবায়ু পরিবর্তনের গতিবিধি লক্ষ্য করো না,
হিমালয়ের তলপেটে বিষফোঁড়া তুষারের আর্তনাদ শুনতে পাও না !!

জীব বৈচিত্রের ধীরে ধীরে বিলুপ্তি,
তোমায় নীরব সতর্কীকরণ সাবধানী সংকেত দিচ্ছে-
আগুন-বায়ু-জল কোনটাই মানুষের দাস ছিল না,
মনে রেখো-
প্রজ্ঞাপনের নীল শব্দগুলোর অশনি সংকেত সশ্রদ্ধ সম্মানে মনে রেখো-

লেখকঃকবি।

আরও পড়ুন