একগুচ্ছ কবিতা

চাঁদের কণা

দুর থেকে তোমার দৃষ্টি আমাকে সাজায়
ভালবাসার নিবিড় বন্ধনে।
কল্পনার জগতে হারায় আমি বারবার
হয়তো তোমার সন্ধানে।
মাঝে মাঝে মেঘের চাপে হারিয়ে যাও তুমি
তোমার অস্তিত্ব খুঁজি সর্বোত্র।
কখনো আসে চন্দ্র গ্রহন,তোমার রাগের মত
আবার আবির ছড়াও আমার নেত্র।
সবাই যখন ঘুমের দেশে
তুমি আস রঙিন বেশে।
তোমার আভা মাখি অঙ্গে
হঠাৎ তোমার আগমন স্বপ্ন ভাঙে।
ভালবাসার শত রূপে তোমার ছবি আঁকি
আবার হারায় কল্পনার জগতে।
প্রবল আগ্রহে সমাপ্তি রাতের প্রহর
নতুন রূপে আবার দেখি প্রভাতে।
কখনো অভিমান, কখনো রাগ
হয়তো একটু জাগে লজ্জা।
তবুও তোমার চিন্তায় বিভোর
মনের রঙ তুলিতে সাজল সজ্জা।।

চৈত্রী হাওয়া

চৈত্রী হাওয়া শুষ্ক করেছে মন
দুপুরে দীঘির জলে রাজহাঁসের দোল।
ক্লান্ত যখন বাজার,জনপদ,লোকালয়
খুঁজে ফেরে সবাই সদা মায়ার কোল।
গাছের ডালে ময়না দোলে
ব্যস্ত কাঠঠোকরার দল।
শুয়ে থাকা খাটের ঘুন পোকা
খেয়ে ফেলেছে যেন বল।
বসন্তের বৈরী বাতাসে উড়ছে
প্রেমের নিশান পতপত।
কখনো মনে হয় ছিড়ল এবার
ভুলবে বুঝি চেনা এ পথ।
ভাসলো বুঝি ডিঙি আবার
খুজে পাবে কি তীর?
দুলিতেছে ফুলিতেছে দরিয়ায় ঢেউ
ডানা ভাঙা পাখি খুজে পাবে কি নীড়?

প্রেমের আর্তনাদ

পাপিয়া! ভরা দুপুরে ঘুঘুর ডাক শুনতে পাও?
নিস্তব্ধ মাঠ! প্রান্তর! কচি ধানের ক্ষেত।
দীঘির ধারে দেবদারু গাছের নিচে
তুমি ছিলে ঠিক আমার পিছে।
পাপিয়া! ছৈ তোলা নাওয়ে আমার পাশে
ঠিক মুখোমুখি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে।
ছলাৎ করে দিতাম জল ছিটিয়ে।
যেন ফোঁটা ফোঁটা জল খসে পড়ে।
কোথায় তুমি? কোথায় সেই ক্ষন?
প্রতারনা করে লুকিয়ে রয়েছে নির্জন।
পাপিয়া! কৃঞ্চচূড়া নাকি তোমার খুব পছন্দ!
আজ বুঝেছি কেন তা এত সুন্দর
তোমার জীবনে ছড়াতে পারিনি গন্ধ।
তাই ঊষর আর মরুভূমি এ অন্তর।
বলিনি পাশ থাকতেই হবে!
দুর থেকে ছায়া দিও,দিও দর্শন।
বলিনি পাশে থাকতেই হবে!
দৃষ্টি দিও, যেন নয়ন বারির বর্ষন।
বলিনি কাছে থাকতেই হবে!
তোমার হাসি যেন জড়িয়ে নেয় আমাকে।
বলিনি ভালবাসতেই হবে!
দুর থেকে যেন দেখতে পারি তোমাকে।
বিবর্ন অনুভূতি আমার আর্তনাদের স্বরে
বিরহ যন্ত্রনা আজ গুমরে গুমরে মরে।।

পড়ন্ত বিকেল

বুনো হাসের সারি ডুব দিয়ে খুজে শামুক
একটু পরেই সাদা বকের দল নীড়ে ফেরছে।
ব্যস্ত কৃষাণ ছুটে চলেছে মেঠো পথ বেয়ে
ঠিক তখনই ময়ূর পেখম মেলছে।
আমার মনের বাসর ফুলে ফুলে সাজানো
এই বসন্তে মনের কোকিল ছটফট করছে।
অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি কখন তুমি আসবে
বেহায়া মন তোমার প্রেমে যে আজ মরছে।
শুনেছি বীর পুরুষ তুমি! কত শক্তি কত সাহস
রাঙা বেসে ঘোড়া ছুটিয়ে আসবে আমার পাশে।
স্মৃতি গুলো আজ ভাসে নিরবে, অশ্রু সজল হয়ে
দুরু দুরু কাঁপে বুক, অদৃশ্য কোন এক ত্রাসে।।

বিষাদ

বিষাদের ছায়া মায়ের কোলে দীর্ঘশ্বাস ফেলি
সবুজের বুকে চেয়ে থাকি অবিরাম।
অবাধ্যের শেকল পড়ে অচেনা পথে চলি
কত দূর? কত সময়? নিয়তির কাছে সবই সঁপিলাম।
বিষাদের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত দেহ
রক্তাক্ত জখম ললাটে,সবাই খাড়া ভুয়ে।
অাতঙ্ক আর ব্যর্থতার মলাটে
শুধুই দাপাদাপি কেন, কেন শুধু শুয়ে।
সিন্ধুতে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার প্রলাপ
বিষাদের চাদরে ঢাকা প্রান্তর মহা প্রান্তর।
পাটাতনে পড়ে গুণছে সময়
যাদের স্বজন রয়েছে তেপান্তর।
মাঝ দরিয়ায় জোশ হারিয়ে ক্লান্ত নাবিক
কি হবে এবার, মরব নাকি আজি!
অনর্থক কণ্ঠ মিলিয়ে দিচ্ছে কত ডাক
এখন গর্ব করে বোকা আর পাজি।।

 

আব্দুল মতিন – কবি  সাহিত্যিক ও সহ সম্পাদক  মহীয়সী

আরও পড়ুন