কবিতার আলোচনা

 

কবি Nurealam Mukta’র

#ম কাব্য

একটিই নাম
কবিতাটি নিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতার প্রাসঙ্গিক আলোচনায় আজ উল্লেখ করতে চাই আরও কিছু কথা।

মানুষের মনের ভাবনা চিন্তাগুলো যখন সবচেয়ে সেরা শব্দাবলী দিয়ে পরম মমতায় নান্দনিক ভাবে সাজে সজ্জিত হয়
এবং সেই শব্দাবলী যখন বিন্যাসের মুন্সিয়ানায় বাঙময় হয়ে পাঠকের মনে ঝংকার তোলে সেটাকেই বোদ্ধা কবিদের মতে কবিতা বলা হয়।
কবি মানুষের মনের ভাবনাকে ভাষায় রূপ দেন।
একটি চিত্রকল্প কবির নির্মাণশৈলীর কল্যাণে উপজীব্য হয়ে ওঠে।
একটি অাধুনিক কবিতা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দুই ধরণের চিত্রকল্পের মাধ্যমে লেখা যায়।

যে চিত্রকল্প উপমা ও উৎপ্রেক্ষার সংযোগে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে তাকে বলা হয় প্রত্যক্ষ চিত্রকল্প।
উদাহরণ হিসেবে অামরা বলতে পারি,
” মুখখানি তার ঢলঢল ঢলেই যেত পড়ে
রাঙাঠোঁটের লাল বাঁধনে না রাখলে তায় ধরে।”
কবিতার এ লাইন দু’টি প্রত্যক্ষ চিত্রকল্পের উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
অপরদিকে যে চিত্রকল্প কবিতার শরীরে লুকিয়ে থাকে এবং পাঠক যখন সেই অর্থ উদ্ধার করে পুলকিত হন তাকেই বলে পরোক্ষ চিত্রকল্প।
( উর্দু / হিন্দী কবিতার সাথে পরিচয় থাকার সুবাদে অামার জানা অাছে পরোক্ষ চিত্রকল্প কত গভীর অর্থবোধক ও ব্যাঞ্জনাময় হয়ে ওঠে। কবিতা পাঠ শেষ হতেই পাঠক সমস্বরে বলে ওঠেন, বাহ্ বাহ্, কেয়া বাত।)
নিচে পরোক্ষ চিত্রকল্পের একটি বাংলা উদাহরণ দেখুন,
“শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে
দেখেছি যা হল হবে মানুষের যা হবার নয়
শাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি সূর্যোদয়।
এখানে কবি ” দেখেছি যা হল হবে মানুষের যা হবার নয় ” বক্তব্যে যা প্রকাশ করেছেন তার বাইরেও না বলা অনেক কথাই রয়ে গেছে।
সেই না বলা কথাগুলো যখন পাঠক বুঝতে হন তখনি কবিতার রস অাস্বাদন করতে পেরে পুলকিত হন।

কবিতা হচ্ছে শিল্প। অামাদের বলা বা ব্যবহার করা শব্দগুলিই একজন কবির হাতে পড়ে বাঙময় হয়ে ওঠে। কবিতার যাদুকরি প্রভাব একজন পরিশীলিত বোদ্ধা পাঠককে মোহাবিষ্ট করে করে অাচ্ছন্ন।
অামরা এটাও বলতে ভাষা দিয়ে যিনি যাদুকরি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন তিনিই কবি।
কবি অাল মাহমুদ যখন লেখেন,
যে কাবিন ছুঁয়ে হবে অাজ তোমাদের বিয়ে
তারি গাত্রে লেখা অাছে যৌবনের প্রথম বিজয়।

এই শব্দগুলো এমন একটা চিত্রকল্প তৈরী করেছে, পাঠক অজান্তেই দেখতে পান অামাদের জীবনের একটা অাটপৌরে দৃশ্য।
মোহাবিষ্টের মতই পাঠক হারিয়ে যান, অাটকে পড়েন নস্টালজিয়ায় বা অনাগত স্বপ্নের জগতে।
চিত্রকল্পই হচ্ছে কবিতার শিল্প।
যেমন,
মুখখানি ঢলঢল ঢলেই যেত পড়ে
রাঙাঠোঁটের লাল বাঁধনে না রাখলে তায় ধরে।
এটা একটা প্রত্যক্ষ চিত্রকল্প।
পরোক্ষ চিত্রকল্প হলো এমন,
শিশির শরীর ছুঁয়ে সমুজ্জ্বল ভোরে
দেখেছি যা হলো হবে মানুষের যা হবার নয়..
শ্বাশ্বত রাত্রির বুকে সকলি সূর্যোদয়।
এখানে ‘ দেখেছি যা হলো হবে মানুষের যা হবার নয়’ বক্তব্যে কবি যা প্রকাশ করেছেন,তার বাইরেও কিন্তু অনেক কথা রয়েছে।
যা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে।

কবি নুর আলম মুক্তা যে মহামানব নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন তাঁকে লেখা কোনো সহজসাধ্য বিষয় নয়।
আমরা পরবর্তী আলোচনায় বিশ্লেষণ করতে সচেষ্ট হবো বিষয় অবলম্বন করে কবির কবিতার ভাষা কতখানি সামঞ্জস্য রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। এবং কবিতার নির্মাণশৈলী কতদূর মানদণ্ড রক্ষা করেছে।

ক্রমশঃ

লেখকঃ আবু বকর সালেহ, কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন