কলসিওয়ালী

মাহদী হাসানঃ

নদীর ঘাটে একলা আমি, শান্তি তো নেই মনে,
ঘাট ও নদী সবই আছে— নেই তুমি এই ক্ষনে।
কই হারালে, কই লুকোলে, নাওনি বিদায় শেষে,
হন্যে হয়ে খুঁজছি তোমায়; বন্য পাখির বেশে।

সাঁঝ-সকালে কলসি কাঁখে, আসতে দুলে দুলে,
মিষ্টি ভোরের মাতাল হাওয়া খেলতো তোমার চুলে।
নুপূর পায়ে আলতা মেখে, আসতে নদীর ঘাটে,
এ হৃদয়ের জমিন ধরে— ফিরতে আবার বাটে।

নদীর বুকে ঢেউ জাগাতে; আনতে জোয়ার মনে,
ভাল্লাগে না; পড়ছে মনে— সকাল সন্ধ্যা ক্ষণে।
শূন্য এখন এই নদী ঘাট শূন্য মরুভূমি,
পরিযায়ী পাখির মতো, কই হারালে তুমি!

ঐ মেঠো পথ পায় না ছোঁয়া, আলতা মাখা পায়ের,
সবুজ জমিন বিরানভূমি প্রাণ বুঝি নেই গাঁয়ের!
পাখ পাখালি সুর হারালো, গাছপালা সব নিথর,
চিনচিনে এক বিষের ব্যথা, জমছে বুকের ভিতর।

অনেক বছর পার হয়েছে, হয় না চোখাচোখি,
কী যে হলো হঠাৎ করে; কই হারালে— সখি!
নাম জানি না, ঘর চিনি না, মন সঁপেছি শুধু
ছন্নছাড়া এই পাখি মন; দেখছি এখন ধূ-ধূ।

ভালোবাসি হয়নি বলা হাতটা রেখে হাতে,
হয়নি বলা মনের কথা— কী হয়েছে তাতে!
ভুল পড়েছি! চোখের ভাষায় ভুল ছিল কি লেখা!
কলসিওয়ালী, সময় করে করতে কেনো দেখা!

চাইনে জবাব— কলসিওয়ালী, বড্ড ভালোবাসি—
আগের মতো দেখতে যে চাই— বাঁকা ঠোঁটের হাসি।
লেখকঃ কবি ও ছড়াকার।

আরও পড়ুন