কিছু কিছু প্রশ্ন শুধু বিব্রতকরই নয় শিষ্টাচার বহির্ভূতও

জামান শামস

কিছু কিছু প্রশ্ন শুধু বিব্রতকরই নয় শিষ্টাচার বহির্ভূতও । মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন না, চাকরি বাকরির কি খবর! তার চাকরি নিয়ে আপনার চেয়ে তার চিন্তা-ভাবনা অনেক বেশি। এইসব প্রশ্ন একজন বেকার মানুষকে কত বিব্রত করে এবং অসন্মানিত করে তা কেবল সেই বুঝে।অনেক সময় সে আত্মসন্মান রক্ষা করতে যেয়ে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। বড়জোর বলতে পারেন-আপনি কিছু কি করেন,জনাব।
মানুষকে জিজ্ঞেস করবেন না, বিয়ে কবে করবে! তার বিয়ে নিয়ে তার এবং তার পরিবার অলরেডি অনেক বিপদেই আছে। বিয়েটা বললেই হয়ে যায় না।হতে পারে তার তেমন আর্থিক সংগতি নেই, হতে পারে পরিবারে কোন দায়িত্বশীল মুরুব্বি নেই।
ইংগিত জেনে নিতে পারেন তার পরিকল্পনা কি!
মানুষকে এটাও জিজ্ঞেস করবেন না, বাচ্চা কবে নিবা! এটা খুব ব্যাক্তিগত প্রশ্ন! আপনার চেয়ে তাদের মধ্যে একটা বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনার ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা মোটেও কম নয়। তদুপরি এটা তো কারো ইচ্ছা অনিচ্ছার সাথে যুক্ত বিষয় নয়। আল্লাহ কাউকে সন্তান দেন কাউকে দেননা। কাজেই এরকম প্রশ্ন কারো জন্যই শালীন ও শোভন নয়।
কাছে কখনো এটা জানতে চাইবেন না, কেন সংসারটা টিকলো না! সংসার যার সে যদি টিকিয়ে না রাখে সেটা তার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আপনি মতামত দেয়ার কেউ না। সে এমনিতেই হয়তো বিচ্ছেদের যন্ত্রণায় জর্জরিত! আপনার করা প্রশ্ন তাকে আরো একটু কস্ট দিতে পারে এটা জানার পরেও এমন প্রশ্ন করা চরম বিব্রতকর।
আপনারা বিয়ে বাড়িতে যান, খাবার কেমন সেটা নিয়ে কথা বলেন। জানেন কত বছরের জমানো টাকা দিয়ে একজন মেয়ের বাবা কিংবা ছেলের বাবা আপনাদের জন্য এই আয়োজন করেছেন? কোন কোন ক্ষেত্রে তো ছেলের নিজের ইনকামের টাকা দিয়ে বিয়ে করতে করতে ছেলের বয়স চার দশক পেরিয়ে যায়।
স্কুলজীবনে প্রমথ চৌধুরীর লিখা একটি প্যারা বহুবার ট্রানশ্লেসন করেছি।এর প্রথম নাইনটি ছিলো-“গাড়ীতে উঠিয়া সহযাত্রীকে কোথায় যাইবেন,জিজ্ঞাসা করা অন্যায় বরং জিজ্ঞাসা করিতে হইবে- আপনি অধিক দূর যাইবেন কি ? এগুলো হলো ভাষা ব্যবহারের শিস্টাচার। আপনি কারো কাছে কিছু জানার প্রয়োজন হলে এমনভাবে বলুন যেনো উত্তরদাতার তাতে ব্যক্তি সন্মানবোধে আঘাত না লাগে,তিনি বিব্রত না হোন এবং ইতস্তত ও অপ্রস্তুত না হোন।
 লেখকঃ প্রবন্ধ লেখক ও সাবেক ব্যাংকার
আরও পড়ুন