গোটা পৃথিবী আমার

 

আমি বাংলাদেশে জন্মেছি বলে
আমার ভালবাসা কেবল এদেশের মানচিত্রের সাথে পেন্ডুলাম হয়ে দোলে না
বরং নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি হয়ে
উড়ে চলি সকল দেশের আকাশে
সীমান্তের একে- ফরটি সেভেনের বেয়োনেট
তাক করা থাকে বুক বরাবর
বুকের সাহসের কাছে রাইফেলের নলর
একবারও জয়ী হতে দেখিনি আমি
কানে বাজে বিভাজন রেখায় হাতুড়ি পেটার শব্দ
মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতা জিতে যায়
বার্লিন প্রাচীরের অশ্রুর প্রপাতে।

জম্মভূমিকে ভালবাসি খুব–
জন্মভূমি মানে পৃথিবী
সীমান্ত সীমান্ত খেলা স্রষ্টার কাজ নয়
সিংহল থেকে জেদ্দা অবধি আদিমানবের প্রেমময় পদচারনা সীমান্ত ভাঙ্গার গল্প
মহাপ্রাচীর আর কাঁটাতারের বেড়া
একদম মানি না আমি
মন আর মস্তিষ্কের বাঁধ আগে দাও খুলে
একশ’ বিলিয়ন নিউরনকে ছুটতে দাও দিগ্বিদিক
মাধ্যাকর্ষণ শক্তি কিভাবে টানে লাগাম তোমার
দেখার ইচ্ছে করে খুব
সাগরের কোথায় বাঁধ আছে
আমাকে দেখাও
মহাশূণ্যে কোথায় আছে মহাপ্রাচীর
আমাকে দেখাও
দৃষ্টি ভোঁতা হয়ে আমারই দিকে ফিরে আসে
তবু চোখে পড়ে না আসমানের কাঁটাতার
সাইবেরিয়ার অতিথি পাখির পাসপোর্টের কালার দেখতে চাই আমি।

তোমাদের মতো আমিও যদি ধরি
মাতৃভূমি মানে বাংলাদেশ
তবে তার জন্যে সবার আগে
আমিও দিতে পারি প্রাণ।
তবে এক টুকরো ভূখণ্ডের মতো
আমার প্রাণ অতটা ছোট নয়, বাহে
প্রাণ আমার মহাবিশ্বের চেয়ে খানিকটা বড় বলে
সীমান্তের বেড়াটেড়া মানি না মোটেকালে
এসব কুপমণ্ডুক অসভ্য রাজাদের কাজ
জং ধরা মাথায় কুটুস কুটুস ঘুনপোকাদের বাস
শয়তানের সাথে যার নিবিড় চলে অভিসার
বর্ডার শব্দটি মুছে দাও ডিকশনারির পাতা থেকে
এই শব্দটি স্রষ্টার অভিধানে নেই
সরাও তোমার কাঁটা তারের বেড়া
হটাও তোমার গোলাবারুদ আর জলপাই রঙের গাড়ি
পাসপোর্ট অফিসগুলো দাও জ্বালিয়ে
আমার চরভবানিপুর আর শিকাগোর মধ্যে এরাই গড়েছে ব্যবধান
আমার যেখানে খুশি চলে যাবো
সীমান্ত নামের মানচিত্রের কালাপানিতে
আর নয় বন্দী থাকা
ইন্ডিয়ান কাঁটাতারের বেড়ায় আমার থুথু ফেলার ইচ্ছা করে খুব
যেখানে ঝুলে থাকে শত শত ফালানির লাশ
চীনের মহাপ্রাচীরে আমি মুতে দিতে চাই
অবারিত কণ্ঠে বলতে দাও আমায়
গোটা পৃথিবী আমার
যেখানে খুশি চলে যাবো আমি।

এই দেশে জন্মেছি বলে
এখানেই মরতে হবে, এখানেই হবে কবর শ্মশান
এই আবেগ একবারও টানে না আমায়
আমার দেহ যদি পঁচে যায় এই জমিনে
তাতে দেশের কি বা লাভ?
সেটাও জানি না আমি
পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার দিন
নিজের লাশটাকে রাখবো কোথায়–
আজিমপুর নাকি স্পেনের কর্ডোভায়?
এমন বেকুবের ভাবনা ভাবতে ভালো লাগে না আমার
আমি শুধু বলতে চাই
গোটা পৃথিবী আমার
যেখানে খুশি সেখানে চলে যাবো আমি
তারপর সময় ফুরোলে বিশাল পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে
পড়ে থাক পরিত্যক্ত লাশ
ক্ষুধার রাজ্যে আমার মাংস যদি
শকুনের দুুু’বেলা পুষ্টি যোগায় তবে
নির্মল হাসি নিয়ে ফিরে যাই প্রিয়তম স্রষ্টার কাছে।

 

রফিকুল্লাহ কালবী – কবি ও সাহিত্যিক

Copyright protected by the author.

আরও পড়ুন