চাইলেই পাশে থাকা যায়

শাকিলা আক্তার পাঁপড়িঃ

কালকে মাংস রান্না করে চালের গুড়ার রুটি বানাইস।
কেন?
শবে বরাত না!
তো?
ওমা রুটি, মাংস, হালুয়া এসব একটু বানাতে হয় শবে বরাতে, জানস না!
তুমি কি টিভি দেখ না?
কেন?
শুধু আমাদের দেশে না, অচিরে গোটা দুনিয়ায় খাদ্য সংকট আসতে পারে।
আচ্ছা তুই না খাইলে নাই। আমার নাতিরে রান্না করে দিস!

শোন ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের দোহাই দিয়ে এসব খাওয়া এখন অধর্ম বুচ্ছ! কোরআন হাদীসের সহীহ ব্যাখ্যা নাহয় জানো না বলে বাদই দাও, আরে আমার ছেলের বয়েসী হাজারো বাচ্চা বেঁচে থাকার মত দুমুঠো খাবার পাচ্ছে না। আর তুমি বল মাংস রাঁধতে!
কাল নতুন করে রান্না দূরে থাক ফ্রিজে যদি আগে থেকে রান্নাও করা থাকে তবেও এসব খাবার আমার বাচ্চার মুখে তুলে দেবার নামে অমানুষ হবার শিক্ষা আমি দিতে পারব না। যদি কিছু বুঝে থাক তবে আশা করি তোমরাও বসে বসে রুটি মাংস হালুয়া খাবা না। রোযা রাখলে সেটার মাহাত্ম্য বুঝে রাখো। দুনিয়ায় মহামারির এই সময়েও যদি সিয়ামের মাহাত্ম্য বুঝতে না পার তবে রোযা রাখাই ছাইড়া দাও।

উর্ব্ধশ্বাসে কথাগুলো ফোনের ওপারে থাকা মা’কে বলে আফসানা তার ছেলে আরাফের জন্য ভাত বাড়তে চলে গেল রান্নাঘরে।

একটা সময় প্রতিবেলার খাবার নিয়ে ঘন্টা ধরে আরাফের পেছনে ছুটতে হত। ইদানীং সোনামুখ করে গপাগপ খাবার সাবাড় করে নেয়।

নিজের কর্মকান্ডে বিস্মিত আরাফের কৌতুহলী প্রশ্ন, মামনি আমি দ্রুত খাবার খাওয়া শিখলাম কি করে? ছেলের মাথাভর্তি কোঁকড়া চুল আদর করে নেড়ে দিয়ে আফসানা বলে, আমার বাবাই যে লক্ষ্মীসোনা হয়ে গেছে তাই।
মামনি প্লেটে যে আজকাল এক চামচ ভাত কম তুলে সেটা বুঝবার মত বুঝোয়া এখনো হয়ে উঠেনি ছ’বছরের আরাফ!

রাতের খাবার বেড়ে নিয়ে জলদি খাওয়ার তাগাদা দিতেই রাসেল জানতে চায়, তোমার প্লেট কোথায়?
আরাফকে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে আফসানা বলে, তুমিই না বল ডায়েট করতে! তাই সন্ধ্যায় ভারী নাশতা করলে রাতে খাব না ঠিক করেছি। তুমি তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও, আমাকে আবার গোছাতে হবে তো সব!

সকালের নাশতা শেষে চা নিয়ে টিভির সামনে নিউজ দেখতে বসেছে আফসানা। আরাফের বায়না চায়ে ভিজিয়ে বিস্কিট খাবে।
মা তো লাল চা খাচ্ছি, ওটায় যে বিস্কিট ভেজালে মজা লাগে না বাবাই!
চমকিত রাসেল মুখ তুলে শুধায়, ‘সকালে দুধ চা খেতে না পারলে কুরুক্ষেত্র বাধিয়ে দেয়া আফসানা বিবি লাল চা খায়! কিভাবে সম্ভব!’

আফসানা জানে ক্ষুধার্ত মানুষেরা মুখে দু লোকমা ভাত পুরে নিয়ে ওরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সেটা অনুভব করার জন্য সাংসারিক খরচের টাকা থেকে কিছুটা বাঁচিয়ে, সাহায্য প্রার্থনাকারী বিকাশ নাম্বারগুলোতে পাঠানোর জন্য নিজের অতি অভ্যস্ত জীবনাচরণ পাল্টে দেয়া সম্ভব!

শুধু সম্ভব না রাসেল আর মা’কে বোঝানো।

লেখকঃ সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন