জীবন জুড়ে নারী

আবদুর রহিম রবিন

জননী-
যার গর্ভে প্রভূ সৃজিয়াছেন আমায়,
যখন আমার কেউ ছিলনা
তখনো আমায় পরম মমতায়
লালন করেছেন মা- আমার গর্ভধারিণী।
প্রশ্নই আসেনা কোন মূল্যে কোন ভাবে
গোচাবো মায়ের ঋণ।
মায়ের আঁচলে নারীর ভালোবাসা অর্বাচিন
চিরদিন চিরদিন।

বুকের গভীরে যার ভালোবাসা গচ্ছিত থাকে
যার হাসিতে ফুলে পাপড়ি হাসে পাতার ফাঁকে
জীবনের বাঁকে বাঁকে।
আমার সুপথে চলার প্রেরণায়
সে আমার অতি আদরের,
সুখ দুখ হাসি কান্নার ভাগাভাগিতে
সবচেয়ে আপন- সে আমার বোন।
বুকের গভীরে যার চাহনি
আলোকিত করে মন।
জীবনের সবুজ সারল্যে নারী
বোন আমার- নেই কোন ছাড়াছাড়ি।

নিঃশ্বাসকে যার পরশে
সবচেয়ে মধুর লেগেছে,
জীবনের টানে জীবন পথ খুঁজেছে
ভালোবাসা অন্তর্বাস খুলেছে
নিপুন মায়ায়,
তৃষ্ণা জাগিয়ে তৃষ্ণা মিটিয়েছে
আমার আকণ্ঠ পিপাসায়,
সব অবসাদ ছাপিয়ে জীবনের স্বাদ দিয়েছে
ভালো লাগায়, ভালোলাগা ভালোবাসায়,
পরিণীতা সে নন্দিনী আমার সহধর্মিনী,
তার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ আমার ধরনী
তাকে নিয়েই জীবন পাড়ি।
আমার একান্ত উপলব্ধিতে চির অনন্যা নারী।

বাবার খোলা বুকে উদোম গায়ে
হাত পা ছড়িয়ে দিয়ে
পরম সুখে ঘুমিয়ে যেত বুকের সনে মিশে.
পূণ্যতার ফুল ফোটাতো নিবিড় নিঃশ্বাসে
সেই শিশুটি বড় হয়ে
আমার আরেকটি ছোট্ট মা হলো,
চলে যেতে হয় তাই চলে গেল
বাবার বাড়ি ছেড়ে স্বামীর ঘরে,
দূরে থেকে যে অগোচরে
আমার মুখখানি পোষে অন্তরে
সে আমার মেয়ে,
আমার হৃদয়ের অলিন্দ নিলয়-
আমার বন্ধনে দামী সবচেয়ে।
পিতা-কন্যার ভালোবাসা
বাঁধ মানেনা কোন বাড়াবাড়ি,
এখানে সদা আমার বুকে মাথা পেতে
স্ণেহডোরে থাকে নারী।

যে তোমাকে গর্ভে করেছে ধারণ
পরম ভক্তিতে তাঁকে সদা কর সম্মান,
শান্তির ধ্রুবতারা জ্বলে উদারতায়
মায়ের খুশিতেই সন্তানের চিরকল্যাণ।
এ কথা আমার নয়
আমাদের সকলকে সৃজিয়াছেন যিনি
সুপথ নির্দেশনায় এ তাঁর অক্ষয় বাণী,
এ কথা বলে আসমানি আল ক্বোরআন।

জীবনের পরতে পরতে যার এত অবদান
বলতো কী করে  সেই নারীকে করি অসম্মান!
আমি স্বর্গ চাইনি
তোমায় চেয়েছি নারী।
নারীর অমর্যাদায় যে তিমির বিভাবরী
আমি তা চাইনা, আমি নরক চাইনা,
আমি তোমায় চাই নারী।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন