বৃষ্টির পানির সাক্ষী

 

রাজু ও সজীব দুই প্রতিবেশী। তারা সব সময় একে অপরের সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতো। একদিন বৃষ্টি হচ্ছিল বেশ জোরে। রাজুর হাতে ছিল একটি ছুরি। হঠাৎ সে ছুরি দিয়ে সজীবের ওপর আঘাত করে এবং এতে সজীব আআঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পড়ে যায়। সে সময় সজীব বলে,” আজকের বৃষ্টির পানির সাক্ষী দিবে। তুই আমার হত্যাকারী। ” তখন রাজু মুচকি হাসে এবং বলে পাগল কি বলে,” বৃষ্টি পানি আবার সাক্ষী দিতে পারে?”

কিছুক্ষণ পরে সজীব মারা যায়। রাজু তাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে গিয়ে কবর দেয় একা একা। এরপরে সে বাড়িতে চলে আসে এবং সে বসে বসে বিভিন্ন চিন্তাভাবনা করে। সজিব এর স্ত্রী ও পুত্র তাকে খুঁজে নেয়া পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে এবং সে রাজুর কাছে জানতে চেয়েছিল তার বাবাকে দেখেছে কিনা রাজু বলে, “না, তাকে সে দেখেনি।”

অনেকদিন পর রাজু তার স্ত্রীর সাথে বসে ছিল। এমন সময় জোরে বৃষ্টি আসলো এবং বৃষ্টি আসার সময় মুড়ি মেখে এনে তাকে খেতে দিল। মুড়ি খেতে খেতে রাজুর সেই বৃষ্টির দিনের সজীবের কথা মনে পড়ে গেল। সে বলেছিল, “বৃষ্টির পানি তার হত্যাকারীর সাক্ষী দিবে। ” তাই সে আবারো মুচকি হাসলো। মুচকি হাসা দেখে তার স্ত্রী বলল, “তুমি আমার কি দেখতে পেয়েছ? তাই তুমি হাসছো। “রাজু তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলো যে সে এমনিতেই হাসি আসছিল কিন্তু তার স্ত্রী নাছোড়বান্দা। সে কিছুতেই বুঝতে চাইছিল না অগত্যা তাকে সেই দিনের সজীবের হত্যার বিষয়ে বর্ণনা দিল।

এভাবেই রাজু ও তার স্ত্রীর সুখের দিন কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু হুট করে একদিন রাজুর সাথে তার স্ত্রীর বিবাদ বেধে যায়। এতে স্ত্রী তাকে বলল, ” হ্যাঁ তুমি কত ভালো সেটা তো আমি জানি। তুমি না সজীব কে হত্যা করে কবর দিয়েছিল। ”

এই কথাগুলো সজিবের স্ত্রী ও পুত্র শুনতে পায় এবং তারা থানায় গিয়ে জানায়। থানা থেকে পুলিশ এসে রাজুকে ধরে নিয়ে যায় এবং সজীবকে যে জায়গায় কবর দেয় সেই জায়গা পুলিশকে চিনিয়ে দেয় এবং সেখান থেকে পুলিশ তার লাশ খুঁজে খুঁজে বের করে।

সজীব হত্যাকাণ্ডের কেস আদালতে হোটেলে আদালত বিভিন্ন ধরনের সাক্ষী-প্রমাণ ও ফরেনসিকের সাহায্যে রাজুর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। এই রায় ঘোষণার পরে তাকে যখন জেলখানায় বন্দি করে রাখে তখন তার বারবার সেই দিনের কথা মনে পড়ছিল যখন সজীব রাজুকে বলেছিল “বৃষ্টির পানি সাক্ষী দেবে”। আজ সে বুঝতে পারছে সত্যিই বৃষ্টির পানি ও সাক্ষী দিতে পারে এই কথার অর্থ এটা নয় যে সত্যি সত্যি বৃষ্টি পানি সাক্ষ্য দেয়।

 

কামরুজ্জামান জেমস – কবি ও সাহিত্যিক 

আরও পড়ুন