মুভি রিভিউ: এ সেপারেশন

সুইটি শিলা

মুভিঃ A Separation

পরিচালকঃ আসগর ফরহাদি
প্রযোজকঃ আসগর ফরহাদি
রচয়িতাঃআসগর ফরহাদি
মুক্তিঃ ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১১
দৈর্ঘ্যঃ ১২৩ মিনিট
ভাষাঃ ফার্সি

শ্রেষ্ঠাংশেঃ
লেইলা হাতামি -( সিমিন চরিত্রে)
পেয়মান মোয়াদি- (নাদের চরিত্রে)
সারেহ বায়াত – (রাজিয়া চরিত্রে)
সারিনা ফারহাদি- (তারমেহ চরিত্রে)

পারিবারিক কিংবা সহজ কথায় বলতে গেলে সাংসারিক জীবনে দ্বন্দ্ব বিবাদ, বাদানুবাদ হয়েই থাকে, খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে বর্তমান সমাজে অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয় হলো ডিভোর্স বা বিবাহ বিচ্ছেদ। দিন দিন এই বিষয়টির হার ক্রমেই বাড়ছে । কেউ কাউকে এতটুকু ছাড় দিতে না চাওয়াই একসময় এই পরিস্থিতে গড়ায়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিই হলো “এ সেপারেশন ” মুভির কাহিনী।

মূল কাহিনীঃ
মুভির শুরুতেই দেখা যায় আদালত কক্ষে দুজন দম্পতি যারা তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু বিচারক মানছেন না তাদের বিবাহ বিচ্ছেদকে গ্রহণ করতে কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, তাদের বিচ্ছেদের জন্য উপযুক্ত কোন কারন নেই এবং দুজন দুজনের কোন দোষের কথাও বলেন নি, ঠিক কোন দোষের কারনে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ করতে চাচ্ছেন।

এই মুভির দম্পতি নাদের এবং সিমিন যারা ১৪ বছর ধরে সংসার করছেন এবং তাদের ১১ বছরের একটি মেয়ে আছে যার নাম “তারমেহ”। সিমিন আরও ভাল জীবন যাপন করার জন্য তেহরান ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাতে চায় নাদের আর তারমেহকে নিয়ে । কারণ সিমিন চায় না তারমেহ এরকম পরিবেশে বেড়ে উঠুক । কিন্তু নাদের তার বাবা যে কিনা আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত তাকে ছেড়ে কোথাও যেতে চায় না । নাদের যখন তেহরান ছাড়তে অনিচ্ছুক সিমিন তখন নাদেরকে ডিভোর্স দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ডিভোর্স এর আবেদন করে । কিন্তু পারিবারিক আদালত সমস্ত কিছু পরীক্ষা করে সিমিনের ডিভোর্সের আবেদন নাকোচ করে দেয় কারণ আদালত ডিভোর্স দেয়ার পেছনে তেমন কোন কারণ খুঁজে পায় না । এতে সিমিন তার মেয়ে তারমেহ এবং নাদেরকে ছেড়ে তার বাবা-মায়ের কাছে চলে যায় । এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা, দুর্ঘটনা এবং মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে সিনেমাটির কাহিনী এগিয়ে যায়। সিমিন চলে যাবার পর, এক কাজের মহিলা ও তার মেয়েকে রেখে যায় নাদেরের বাড়িতে। হঠাৎ একদিন কাজের মহিলা রাজিয়ার সাথে বাকবিতণ্ডায় রেগে যায় নাদের,শুরু হয় আরেক ঝামেলা, রাজিয়ার গর্ভপাত ঘটে তার দোষ বর্তায় নাদেরের উপর। চলে মামলা, ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। একসময় এসব ঝামেলা মিটে যায়। তবে সিমিন কি ফিরে আসবে? নাকি তাদের বিচ্ছেদ হবেই? তারমেহর কি হবে? এসব কিছু জনতে হলে দেখতে হবে অসাধারণ মুভিটি।

আমার উপলব্ধিঃ
অসম্ভব সুন্দর এই মুভিটি দেখতে গিয়ে আমার বারবার নিজস্ব সমাজের চিত্রই চোখে ভাসছিল। চেনা কিছু দৃশ্যও যেন ফুটে উঠছিল।অসাধারণ সামাজিক এই মুভিটিতে নেই কোন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কিংবা অন্য কোন গান। প্রত্যেকের অভিনয় খুবই সাবলীল লেগেছে, বাংলা সাবটাইটেলসহ মুভিটি দেখেছি।পরিবারের নানা রকম দ্বন্দ্ব সংঘাত ও প্রয়োজনীয়তার বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে এই মুভিটিতে। একসাথে থাকতে গেলে ছোট ছোট কিছু বিষয়ে ছাড় দিলেই সম্পর্ক এবং জীবন দুটোই যে সুন্দর হয়, সে সম্পর্কে কিছুটা উপলব্ধি হবে মুভিটি দেখলে।

সিমিন যখন নাদেরকে তার পরিবার অর্থাৎ তার বাবাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা বলে তখন নাদের রাজি হয় নি শুধু বাবার কথা ভেবে। এসময় সিমিন বলে, তুমি তাকে ছেড়ে গেলেই বা কি সে তো তোমাকে চিনতে পারেনা, কাউকে চিনে না অসুস্থতার জন্য। তুমি যে তার ছেলে সেটা বোঝার ক্ষমতাও তার নেই, সে তোমাকে চিনে না। তখন নাদের বলে, তিনি আমাকে না চিনুক, কিন্তু আমি তো তাকে চিনি। এই একটি কথাই দর্শককে অনেকক্ষণ ভাবাবে দর্শক বুঝতে পারবে পারিবারিক সম্পর্কের মানে কি? শুধু দায়িত্ব পালন করা নয়, একটু ভালবাসা ও যত্নই পারিপারিক বন্ধন দৃঢ় করে।

 

লেখকঃ কলামিস্ট
আরও পড়ুন