“রাত্রি নামে অমাবস্যা ‘পর্ব-৬ (একটি মুক্তিযুদ্ধের গল্প)

হাসিনা সাঈদ

“সুহাসিনী রাত্রি’
-জানি সুরঞ্জনার ঐ দুনয়নের দীঘির জলে ভেসে যেতে    চাইবে বহু যুবকের একাকী অন্তর।আর আমি তো আমার রাত্রির আকাশে এক ফাঁলি চাঁদ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।রাত্রি নামে কি আসে যায়?যার হাসিতেই এত মধুরতা,বিমোহিত মন সে তো কত নামে ডাকতে চাইবেই তার রাত্রিকে?
আচ্ছা আমার সনে সাক্ষাত হওয়াটা আপনার অপারগতা কিন্তু অনুকম্পা নয় তো?তবু আমার বিনীত নিবেদন, আমি ছাদে আপনার জন্য অপেক্ষা করবো।
সীমান্তকে কাল সকালে পড়াতে আসবো।পড়া শেষ হতে বারোটা বাজবে আপনি তখন ছাদে থাকবেন।
অনুনয় জ্ঞাপন করছি।

বিঃ দ্রঃ মনে কোনোরূপ ভয় বা আশংকা রাখবেন না।আমি পাঁচ মিনিটের বেশী সময় নিবো না।
রাশেদ

আজ রাশেদ যে বইটি এনেছে সেটি একটি সাহিত্য পত্রিকা।সেই পত্রিকায় রাশেদের কবিতা বের হয়েছে।
রাশেদ সেই বইটি সীমান্তকে রেখে দিতে বলে।
সীমান্ত জিজ্ঞেস করে,
-কেনো স্যার রেখে দিবো….!আপনার লাগবেনা?
-আমার কাছে আরও কপি আছে।রেখে দিতে পারো বুঝেছো।
-জ্বী স্যার।

বইটি খুলে অবাক রাত্রি।কারন রাশেদ যে কবিতা লিখেছে সেটিতে তার নাম।
কবিতার নামটি ছিল
“আমার আকাশে জোছনা রাত্রি ‘

-আমার আকাশে রাত্রি নামে জোছনা হয়ে
নির্ঘুম চোখ, হৃদয় সরবর খোঁজে স্বপ্ন প্রহরে
জোছনার মাঝে চেয়ে রই
কি বিশালতা আর আকুলতা
রাত্রি আকাশে
দৃষ্টি যতদূর ছুঁয়েছে তোমার
জ্যোৎস্না বিলাশে…
………….
…….
…….
…….?

              রাশেদুল ইসলাম রাশেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রবিজ্ঞান

কবিতা ও চিঠি দুটো পড়েই মুগ্ধতা ছেঁয়ে যায় রাত্রির সারা মুখে ।ঐ মুখটা জুড়ে হাসির ঝিলিক পরক্ষণেই ম্লান হয়ে যায় ফের।মনচঞ্চলতা ঘিরে থাকে তার হৃদয় আকাশে।
দেখা করবে কি করবে না ভাবনা যেন আরো অস্থির করে তুলছে তাকে।

অবশেষে দুরুদুরু বুকে রাত্রি ছাদে চলে যায় কাপড় শুকোতে দিতে যাবে বলে।
স্নান শেষ করে এলো চুলগুলো ঝাড়ন দিয়ে ঝাড়তে থাকে রাত্রি,কাপড়গুলো নেড়ে দেয়।
হঠাৎ পেছন থেকে পায়ের আওয়াজ টের পায় রাত্রি।
ভয় ও শিহরণ তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে চাপে তখুনি।
আর সাথে সাথে মাথায় কাপড় দেয় রাত্রি।
আর ভারী একটা অদ্ভুত সুন্দর মোলায়েন স্বরে তার নামটি শুনতে পায়…. ।(চলবে)

হাসিনা সাঈদ কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন