শৈশবের শীত

অসিমা দাস দৃষ্টি

হিমহিম শীতল হাওয়ায়, ছোট গাঁয়ে মন চলে যায়
পিঠে পুলির ঘ্রাণ আর শিশির ভেজা সকাল যেথায়।
প্রথম ভোরের ঝলকানিতে শিশরকণা হাসতো সেথায়
আমরা সকল বিচ্ছু মিলে পদ্ম ফুল আর শিউলি তুলে,
দলবেঁধে ছুটতেম খেজুর রসের কলস আনবো বলে।
খেজুর রসের পায়েস- পুলি,ধোঁয়া উঠা ভাপা পিঠা
ভাবতে গেলে এখনো হায় জিভের নিচে জল এসে যায়।
ভোরের শেষে রৌদ্র এসে সোনার রোদের ওম দিয়ে যায় হুরমুড়িয়ে শীতকাতুরে সকাল রোদের ওম নিতে যায়।
সোনার রোদে সোনার ফসল ঝলমলিয়ে উঠে মাঠে।
নতুন ধানের চালের পিঠা আলাদা স্বাদ আনে মুখে।
শীতের দিনে নবান্নতে পিঠের বাহার দেখতে যদি,
কয়েক পদের পায়েসই হতো দেখাতে হাতের
কারসাজি।
সোনার ফসল চাষির মুখে সুখের হাসি ফুটিয়ে তুলে।
আবার জানো শীতের দিনে নিয়মিত খেলা ছেড়ে,
কাঁচা হাতে কাজ করে যাই চড়ুইভাতি খেলার ছলে।
সবই ভালো শুধু বাপু ইস্কুলের প্যরা না দিলে-
ইস্কুলেতে নানা রংয়ের শীতের পোষাক ছড়িয়ে থাকে,
ঠিক যেভাবে নানা ধর্মের মানুষ মিলে-মিশে থাকে।
শীতের পিঠে- শীতের পুলি
আমায় তোমার সাথে নিবে?
বছর ঘুরে আবার আমি আসবো নাহয় তোমার সাথেই।
দেখবো আমি কেমন করে মানুষ তোমায় প্রথম খেলে-
খুব অভাবী চাষীর ঘরে ঠাঁই মেলে কি নবান্নের দিনে?
মোড়ের ধারের বৃদ্ধ বুড়ি পায় কি কভু তোমার দেখা?
অভাবী মা সব পিঠেই তুলে দিলো মেয়ের মুখে।
শীতের সকাল তোমার রোদের ভাগ দাওতো অসহায়ে?
নাকি সেই আলোও লুটে নেয় পাড়ার বড্ড দাপটি লোক?
শীতের সকাল- শীতের সবই-
তোমরা আমার ভীষণ প্রিয়।
খুব মিনতি করছি তোমায়-
লক্ষ্মীটি আর একবার শৈশবে নিয়ে চলো।।

অসিমা দাস দৃষ্টি  কবি ও অর্থ সম্পাদক -লাইট ফর হিউম্যানিটি।

আরও পড়ুন